নিজস্ব প্রতিবেদক।।
পার্বত্য চট্টগ্রামের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় অবৈধ অস্ত্রধারীদের অন্ধকার পথ পরিহার করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের মুখপাত্র পাইশিখই মারমা।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, আঞ্চলিক রাজনীতির নামে কিছু বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতৃত্ব পাহাড়ের সরল জনগণ, বিশেষ করে তরুণদের সংঘাতনির্ভর ও অস্ত্রকেন্দ্রিক রাজনীতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, ইউপিডিএফ (প্রসিত চাকমা) এবং জেএসএস (সন্তু লারমা)-এর একটি অংশ গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পরিবর্তে ভীতি প্রদর্শন, চাঁদাবাজি ও অবৈধ অস্ত্রের দাপটকে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে ব্যবহার করছে।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, উত্তর পাহাড় ও পশ্চিম পাহাড় এলাকায় অবৈধ অস্ত্র নিয়ে ঘোরাফেরা, মহড়া ও শক্তির প্রদর্শন কোনোভাবেই অঞ্চলের প্রকৃত সমস্যা সমাধানের পথ হতে পারে না। বরং এসব কর্মকাণ্ড উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা নষ্ট করে এবং বিভিন্ন জাতিসত্তার মধ্যে পারস্পরিক আস্থার পরিবেশকে দুর্বল করে। একটি ন্যায্য অধিকার আদায়ের আন্দোলন কখনোই সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকা বিপন্ন করে কিংবা গ্রামাঞ্চলে ভীতির সংস্কৃতি তৈরি করে এগোতে পারে না বলেও মন্তব্য করা হয়।
পাইশিখই মারমা বলেন, পাহাড়ের মানুষের মূল চাওয়া শান্তি, নিরাপত্তা, সুশাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান। কিন্তু কিছু গোষ্ঠী রাজনৈতিক প্রভাব ধরে রাখতে সংঘাতকে টিকিয়ে রাখতে চায়। এতে অঞ্চলটি অস্থিতিশীল হিসেবে বহির্বিশ্বে উপস্থাপিত হচ্ছে, যা সামগ্রিক উন্নয়নের পথে বড় বাধা।
তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কোনো ধরনের আপস করা উচিত নয়। অবৈধ অস্ত্র ও সন্ত্রাসী তৎপরতার বিরুদ্ধে কার্যকর ও দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি বিভ্রান্ত হয়ে সশস্ত্র কর্মকাণ্ডে যুক্ত ব্যক্তিদের জন্য পুনর্বাসন ও আত্মসমর্পণের সুযোগ আরও জোরদার করতে হবে, যাতে তারা মূলধারায় ফিরে সম্মানজনক জীবনযাপন করতে পারে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, পার্বত্য চট্টগ্রামের ভবিষ্যৎ সংঘাতে নয়, সমন্বয়ে; বিভাজনে নয়, সহাবস্থানে। সব জাতিসত্তার সমান অধিকার, সাংবিধানিক কাঠামোর ভেতরে ন্যায়সংগত দাবি এবং অংশগ্রহণমূলক উন্নয়নই হতে পারে টেকসই সমাধানের ভিত্তি।
শেষে অবৈধ অস্ত্রধারীদের উদ্দেশে মুখপাত্র স্পষ্ট বার্তা দেন, অবিলম্বে অস্ত্র ত্যাগ করে আত্মসমর্পণ করতে হবে এবং পরিবার ও সমাজে ফিরে এসে গণতান্ত্রিক ও আইনসম্মত পথে দাবি-দাওয়া উপস্থাপন করতে হবে। পাহাড়ের ভবিষ্যৎ রক্তপাতের নয়, উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার পথে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
