চাকসু নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী পার্বত্য চট্টগ্রামের শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা পিসিসিপির

মিনহাজুল ইসলাম, নিউজ এডিটর।

পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনে নির্বাচিত ও অংশগ্রহণকারী পার্বত্য চট্টগ্রামের শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের এফ রহমান হলে ‘সংবর্ধনা অনুষ্ঠান–২০২৫’ শীর্ষক এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ (পিসিএনপি) কেন্দ্রীয় কমিটির চেয়ারম্যান কাজী মজিবর রহমান। সভাপতিত্ব করেন পিসিসিপি কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন কায়েস, এবং সঞ্চালনা করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তারেক মনোয়ার।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিসিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ও পিসিসিপির উপদেষ্টা শেখ আহমেদ রাজু, পার্বত্য চট্টগ্রাম লিগ্যাল এইড কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট পারভেজ তালুকদার, সিনিয়র সাংবাদিক কামাল পারভেজ, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হসপিটালের ব্যবস্থাপক তৌহিদুল ইসলাম, পিসিএনপি নেতৃবৃন্দ এবং পিসিসিপির বিভিন্ন পর্যায়ের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে কাজী মজিবর রহমান বলেন, “চাকসুর মতো ঐতিহ্যবাহী মঞ্চে পার্বত্য চট্টগ্রামের তরুণদের অংশগ্রহণ আমাদের গর্বিত করেছে। এ তরুণ প্রজন্ম পাহাড়ে সম্প্রীতি, উন্নয়ন ও নেতৃত্বের নতুন ধারা গড়ে তুলবে।” তিনি আরও বলেন, “পার্বত্য অঞ্চলে শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য এখনো রয়ে গেছে; তা দূর করে জনসংখ্যানুপাতে সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।”

পিসিসিপি কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের সদস্য মো. হাবীব আজম বলেন, “পার্বত্য চট্টগ্রামের শিক্ষার্থীরা আজ জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করছে। চাকসু নির্বাচনে অংশগ্রহণ তাদের আত্মবিশ্বাসের প্রতীক।”

সভাপতির বক্তব্যে শাহাদাৎ হোসেন কায়েস বলেন, “আমরা চাই পাহাড়ের প্রতিটি শিক্ষার্থী নেতৃত্ব ও রাষ্ট্রগঠনের প্রক্রিয়ায় সক্রিয় ভূমিকা রাখুক। শিক্ষিত ও সচেতন তরুণরাই পার্বত্য অঞ্চলের ইতিবাচক ভাবমূর্তি সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে পারবে।”

অনুষ্ঠানে চাকসু নির্বাচনে বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারী ছাত্রনেতাদের হাতে ক্রেস্ট, বই ও সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থী, প্রাক্তন ছাত্রনেতা, সাংবাদিক এবং অতিথিবৃন্দ।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন জাতীয় মঞ্চে পার্বত্য চট্টগ্রামের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ও নেতৃত্বের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা পাহাড়ি তরুণ সমাজের আত্মবিশ্বাস ও সক্রিয় নেতৃত্বের ধারাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে।