খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি।
খাগড়াছড়িতে জঙ্গলে গোপনে মিছিল করে সহিংসতা ও নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে সাবেক পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরাকে প্রধান আসামি করে জননিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় আরও ২২ জনের নাম উল্লেখসহ ১০–১৫ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়েছে।
সোমবার (১০ নভেম্বর) রাতে খাগড়াছড়ি সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলার নম্বর ০৫/২০২৫ (ধারা: জননিরাপত্তা আইন ২০২৩ এর সংশ্লিষ্ট ধারা)।
এজাহারে বলা হয়, ১০ নভেম্বর সকালে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার বটতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে লাঠিসোঁটা, রড, ইটপাটকেল, দা, কিরিচসহ সশস্ত্র অবস্থায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কিছু নেতাকর্মী জড়ো হয়ে সরকারবিরোধী স্লোগান দেয় এবং আশপাশের এলাকায় মিছিল করে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তারা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে পালিয়ে যায়।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, সাবেক প্রতিমন্ত্রী কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরার নির্দেশ, মদদ, পৃষ্ঠপোষকতা ও অর্থায়নে এ সহিংস কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।
অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ও পার্বত্য জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মংসুইপ্রু চৌধুরী অপু, খাগড়াছড়ি পৌরসভার সাবেক মেয়র ও যুবলীগ নেতা মো. রফিকুল আলম, ছাত্রলীগ নেতা অর্ণব ত্রিপুরা টুটুল, রয়েল ত্রিপুরা, এমং মারমা, জিৎজয় ত্রিপুরা, অর্কিড চাকমা, তেপান্তর চাকমা, হৃদয় মারমা, ক্যাজরী মারমা, শাহাদাৎ হোসেন জিসান, জুয়েল চাকমা, শামীম গাজী, আরাফাত হোসেন, নাঈম হোসেন নয়ন, মেহেদী আলম, আনোয়ার হোসেন রুবেল, আইয়ুব আলী চৌধুরী, টিকো চাকমা, মো. দেলোয়ার হোসেন এবং মংসা মারমা।
খাগড়াছড়ি জেলা পুলিশ সুপার আরেফিন জুয়েল বলেন, “নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগী সংগঠনের কিছু সদস্য সরকারবিরোধী উস্কানিমূলক কার্যক্রম চালিয়ে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছিল। তারা গোপনে মিছিল ও নাশকতার পরিকল্পনা করেছিল। পুলিশ তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে মামলা দায়ের করেছে এবং তদন্ত চলছে।”
তিনি আরও জানান, সহিংসতার পেছনে যারা অর্থায়ন ও পরিকল্পনায় যুক্ত, তাদেরও তদন্তের আওতায় আনা হবে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যেই আসামিদের আইনের আওতায় আনা হবে।
