নিউজ ডেস্ক:
গণঅভ্যুত্থানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতি ও দেশত্যাগের পর দেশের ১৩টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে নতুন গেজেট জারি করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জনসাধারণের জন্য এটি প্রকাশ করা হয়। এর একদিন আগে আইন মন্ত্রণালয় অধ্যাদেশটি জারি করে।
অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, একাধিক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের নামের সাদৃশ্যের কারণে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ায় সংশোধন জরুরি হয়ে পড়েছিল। একই সঙ্গে সংসদ ভেঙে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে আশু ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেওয়ায় রাষ্ট্রপতি এই অধ্যাদেশ জারি করেছেন।
নতুন নামকরণ অনুযায়ী, নেত্রকোনার শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয় এখন ‘নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়’, কিশোরগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয় হয়েছে ‘কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়’, নওগাঁর একই নামের বিশ্ববিদ্যালয় এখন ‘নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়’। মেহেরপুর মুজিবনগর বিশ্ববিদ্যালয় হয়েছে ‘মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়’।
গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় হয়েছে ‘গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়’, শরীয়তপুরের একই নামের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় হয়েছে ‘শরীয়তপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়’। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইউনিভার্সিটি এখন ‘বাংলাদেশ ডিজিটাল ইউনিভার্সিটি’, জামালপুরের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হয়েছে ‘জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়’।
এছাড়া, পিরোজপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হয়েছে ‘পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়’, নারায়ণগঞ্জের একই নামের বিশ্ববিদ্যালয় হয়েছে ‘নারায়ণগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়’। গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হয়েছে ‘গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়’, চট্টগ্রামের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি হয়েছে ‘মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ’, আর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয় হয়েছে ‘এভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ’।
গত ১৬ জানুয়ারি স্থানীয় সরকার, পল্লি উন্নয়ন ও সমবায় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া তার ফেসবুক পোস্টে শেখ পরিবারের নামে থাকা ১৩ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত জানান। তবে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রায় এক মাস সময় লাগে।
