নিউজ ডেস্ক:
বিদেশে পালানোর চেষ্টা করেও শেষ রক্ষা হলো না চট্টগ্রামের কুখ্যাত সোনা চোরাচালানকারী আবু আহমেদ ওরফে ‘সোনা আবু’র। গত রাতে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে আটক করে পুলিশ। ৩ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের ডবলমুরিং থানার পুলিশ তাকে ঢাকার বিমানবন্দর থেকে নিয়ে আসে। ডবলমুরিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী রফিক আহমেদ জানান, আবু আহমেদ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের একটি হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, তিনি বিদেশে পালিয়ে যাচ্ছেন। এরপরই বিমানবন্দরে তাকে আটক করা হয়।একসময় চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে মুড়ি বিক্রি করতেন আবু আহমেদ। ১৯৯১ সালে শ্রমিক ভিসায় দুবাই গিয়ে রাতারাতি সোনা চোরাচালান ও হুন্ডি ব্যবসার মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক বনে যান। সিআইডির ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের অনুসন্ধানে জানা গেছে, তার মোট সম্পদের পরিমাণ ৭২১ কোটি ১৭ লাখ টাকা। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে ২১টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে কোটি কোটি টাকা লেনদেনের প্রমাণও মিলেছে।
চট্টগ্রাম, ঢাকা ও দুবাইতে রয়েছে তার বিলাসবহুল বাড়ি, প্লট, দোকান এবং অন্যান্য সম্পদ।২০১৩ সালে চট্টগ্রামের হিলভিউ আবাসিক এলাকায় নিজ বাসার সামনে অপহৃত হন আবু। অপহরণকারীদের ১ কোটি টাকা মুক্তিপণ দিয়ে ছাড়া পান তিনি। ২০১৪ সালে ঢাকায় একের পর এক ১০৫ কেজি, ৫২৫ বার সোনা ও ৬১ কেজি সোনাসহ একাধিক চালান ধরা পড়লে চোরাচালানের মাস্টারমাইন্ড হিসেবে তার নাম সামনে আসে।
২০১৬ সালে চট্টগ্রামের রিয়াজউদ্দিন বাজারের বাহার মার্কেট থেকে তৎকালীন গোয়েন্দা কর্মকর্তা বাবুল আক্তারের নেতৃত্বে তিনটি সিন্দুকভর্তি সোনা ও টাকা উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে একটি সিন্দুক থেকে ২৫০টি সোনার বার এবং অন্যটি থেকে ৬০ লাখ টাকা পাওয়া যায়। এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় মামলা হয়। পাঁচ মাস কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পান তিনি।তবে এতদিন ধরেও তার চোরাচালানের নেটওয়ার্ক সক্রিয় ছিল। এবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে আটক করে নতুন করে তদন্তের আওতায় এনেছে।
