আন্তর্জাতিক ::
ইসলামপন্থি দল হায়াত তাহরির আল-শামের (এইচটিএস) নেতৃত্বে বিদ্রোহীরা এক সপ্তাহের মধ্যে সিরিয়ার দারা শহরের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। এর আগে তারা আলেপ্পো, হামা ও হোমস শহর দখল করে। প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের বিরুদ্ধে ২০১১ সালে শুরু হওয়া বিদ্রোহের কেন্দ্রে থাকা দারা আবারও বিদ্রোহীদের দখলে গেল।
রয়টার্স জানিয়েছে, দারা থেকে সুশৃঙ্খলভাবে সেনা প্রত্যাহারে সম্মত হয়েছে আসাদ বাহিনী। তবে বিদ্রোহীদের এ দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, দারা শহরের প্রধান চত্বরে ফাঁকা গুলি ছুড়ে বিজয় উদযাপন করছে বিদ্রোহীরা। প্রেসিডেন্ট আসাদ ও তার মিত্র রাশিয়া এবং ইরানের জন্য বিদ্রোহীদের এ অগ্রযাত্রা নতুন ঝুঁকি তৈরি করেছে।
দারা শহরের জনসংখ্যা ২০১১ সালের আগে ছিল এক লাখের বেশি। বর্তমানে এটি জর্ডানের সীমান্তবর্তী একটি গুরুত্বপূর্ণ শহর, যেখানে প্রায় ১০ লাখ মানুষের বসবাস।
বিদ্রোহীরা আলেপ্পো ও হামার পর কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হোমস শহর দখল করেছে। হোমস সিরিয়ার রাজধানী দামেস্ক ও পশ্চিমাঞ্চলের আসাদপন্থি এলাকাগুলোর সংযোগ স্থাপনের কেন্দ্র।
এদিকে, সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানায়, রুশ-সিরীয় বিমান হামলায় হামা, ইদলিব ও আলেপ্পোতে অন্তত ২০০ বিদ্রোহী নিহত হয়েছে। বিদ্রোহীদের অগ্রগতি ঠেকাতে হোমসে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০১১ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে সিরিয়ায় সংঘাতকালে ৩ লাখ ৫ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে রাশিয়া ও জর্ডান তাদের নাগরিকদের সিরিয়া ত্যাগের আহ্বান জানিয়েছে।
সিরিয়ার বিদ্রোহীদের পরবর্তী লক্ষ্য দামেস্ক এবং আসাদের ক্ষমতার কেন্দ্রস্থল। তাদের এ অগ্রযাত্রা সিরিয়ার দীর্ঘমেয়াদি গৃহযুদ্ধের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে।
