স্টাফ রিপোর্টার | সাজেক
পার্বত্য অঞ্চলে আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদাবাজির সাম্রাজ্য টিকিয়ে রাখাকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক দুই সশস্ত্র সংগঠন ইউপিডিএফ (প্রসীত) ও জেএসএস (সন্তু)-এর মধ্যে আবারও রক্তক্ষয়ী সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে রাঙ্গামাটির সাজেক ইউনিয়নের চাইল্যাতলী এলাকায় দু’পক্ষের মধ্যে এই ভয়াবহ গোলাগুলি হয়। এতে সঞ্জিতা ত্রিপুরা নামে ৭ বছরের এক নিরীহ শিশু গুলিবিদ্ধ হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকাল ৮টা থেকে চাইল্যাতলী এলাকায় ইউপিডিএফ (প্রসীত)-এর গ্রুপ কমান্ডার বিপ্লব চাকমা ও বাবুধন চাকমার নেতৃত্বাধীন দল এবং জেএসএস (সন্তু)-এর গ্রুপ কমান্ডার বিক্রম চাকমার সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে এ সংঘর্ষ শুরু হয়। দুই পক্ষের ভারী ও অবিরাম গুলিবর্ষণে কেঁপে ওঠে পুরো চাইল্যাতলী ও আশপাশের এলাকা।
সংঘাত চলাকালে নিজ বাড়িতেই গুলিবিদ্ধ হয় শিশু সঞ্জিতা ত্রিপুরা। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত মাচালং স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। শিশুটির পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীরা এ ঘটনার তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
পাহাড়ের জুম্ম জনগণের অধিকার আদায়ের মুখরোচক স্লোগান দেওয়া হলেও, বাস্তবে এসব সশস্ত্র সংগঠনের ক্ষমতার লড়াই ও চাঁদাবাজির খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ এবং অবোধ শিশুদের। এ ঘটনায় সাজেকের স্থানীয় অধিবাসী ও ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি পর্যটন খাতে চরম নিরাপত্তা ও আতঙ্কের ছায়া নেমে এসেছে।
ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অবিলম্বে ইউপিডিএফ ও জেএসএসের সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র ক্যাডারদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা এবং পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার জন্য যৌথ বাহিনীর কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
