জাগ্রত পাহাড় ডেস্ক:
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সরকার রাষ্ট্রপতিকে সরিয়ে দিতে পারে কিনা, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে বিতর্ক চলছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ ইস্যুতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের মন্তব্যের পর অনেকেই তার বিদায়ের দাবি তুলেছেন। বিশেষ করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা এবং সামাজিক মাধ্যমের ব্যবহারকারীরা রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ দাবি করছেন। তবে, আইন ও সংবিধান অনুযায়ী তাকে সরিয়ে দেওয়ার কোনো সরাসরি প্রক্রিয়া এখন বিদ্যমান নেই।
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতিকে সরানোর একমাত্র উপায় হলো সংসদের মাধ্যমে অভিশংসন। কিন্তু সরকার পরিবর্তনের পর সংসদ বিলুপ্ত করা হয়েছে, ফলে এই পদ্ধতি এখন কার্যকর নয়। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপতি নিজে পদত্যাগ করতে চাইলে তা স্পিকারের কাছে জমা দিতে হয়। কিন্তু স্পিকার পদত্যাগ করেছেন এবং ডেপুটি স্পিকার কারাগারে রয়েছেন, ফলে সেই প্রক্রিয়াও বর্তমানে সম্ভব নয়। বিশিষ্ট আইনজীবী শাহদীন মালিকের মতে, এ পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতিকে সংবিধান ও আইনের মাধ্যমে সরানো সম্ভব নয়।
তবে, বর্তমান অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সংবিধান পুরোপুরি মেনে চলা হচ্ছে না বলে অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন। গণঅভ্যুত্থানের পর অনেক সাংবিধানিক পদেই পরিবর্তন এসেছে, তবে সংবিধান স্থগিত করা হয়নি। এ কারণে অনেকের মতে, জনআকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতিকে সরানোর সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। আইনজীবী হাসনাত কাইয়ুম মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রেফারেন্সের মাধ্যমে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
অন্যদিকে, বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্রপতির সমালোচনা করলেও তার পদত্যাগ বা অপসারণের প্রশ্নে সরাসরি কোনো দাবি জানাচ্ছে না। বিএনপি নেতাদের মতে, দলটি রাষ্ট্রপতির মন্তব্যের গুরুত্ব বা এর পেছনের উদ্দেশ্য বুঝার চেষ্টা করছে। তবে, তারা এ নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্রপতির শপথ ভঙ্গের অভিযোগ করলেও তার পদত্যাগের দাবি সরাসরি তোলেনি।
সব মিলিয়ে, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে অপসারণ সরাসরি আইন অনুযায়ী না হলেও, পরিস্থিতি অনুযায়ী এমন সিদ্ধান্তের সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।