নিউজ ডেস্ক :
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে সন্দ্বীপের সঙ্গে নিরাপদ যোগাযোগের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। ২৪ মার্চ ২০২৫, সোমবার, দেশের প্রথম সমুদ্রপথের ফেরি সীতাকুণ্ডের বাঁশবাড়িয়া ঘাট থেকে সন্দ্বীপের গুপ্তছড়া ফেরিঘাটে পৌঁছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এ প্রকল্পকে সন্দ্বীপের জন্য ‘কলঙ্কমোচন’ বলে উল্লেখ করেন। ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৫০ বছর পরেও দ্বীপের মানুষকে কাদা মাড়িয়ে, ডিঙি নৌকা ও বোটে পারাপার হতে হয়েছে—এটা লজ্জার। অবশেষে সেই অধ্যায়ের অবসান ঘটল, যা পুরো চট্টগ্রামের জন্যও এক ঐতিহাসিক দিন।
অনুষ্ঠানে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও শ্রম মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন জানান, ফেরি চালুর আগে নৌঘাট দখলমুক্ত করা এবং সমুদ্র উপকূলীয় পরিবেশে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করাই ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। ফেরিঘাটের নাম শহীদ মাহমুদুর রহমান সৈকত ও সাইমুন হোসেন মাহিনের নামে নামকরণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, এই প্রকল্পের মূল কৃতিত্ব প্রধান উপদেষ্টার। সন্দ্বীপের নারীদের কষ্টের কথা জানার পর তিনি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক ই আজম বীর প্রতীক, গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার, মৎস্য উপদেষ্টা ফরিদা আখতার, স্বরাষ্ট্র ও স্বাস্থ্যবিষয়ক উপদেষ্টাদের বিশেষ সহকারীরা।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ ইউসুফ সভাপতিত্ব করেন এবং বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান কমডোর আরিফ আহমেদ মোস্তফা স্বাগত বক্তব্য দেন।
সকাল ৯টায় চট্টগ্রামের বাঁশবাড়িয়া থেকে ছেড়ে যাওয়া ফেরিটি এক ঘণ্টার মধ্যে গুপ্তছড়ায় পৌঁছালে হাজারো সন্দ্বীপবাসী উল্লাসে স্বাগত জানান। এটি দেশের সামুদ্রিক ফেরি চলাচলের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করল।
