নিউজ ডেস্ক:
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা এবং শান্তিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস দৃঢ়ভাবে জানিয়েছেন, “বাংলাদেশে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের অচিরেই আর কোনো স্থান থাকবে না।” সম্প্রতি যুক্তরাজ্যভিত্তিক গণমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এমনই মন্তব্য করেন।
ড. ইউনূস বলেন, আওয়ামী লীগ একটি ফ্যাসিবাদী দল হিসেবে জনগণের ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে, নানা মেকানিজম তৈরি করেছে এবং দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করেছে। গণতন্ত্রের প্রেক্ষাপটে এমন দলের টিকে থাকার অধিকার নেই।
ড. ইউনূস আরও বলেন, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে বর্তমান সরকার এখনই তাকে ভারত থেকে ফেরত চাইবে না। কারণ, বাংলাদেশ বড় প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক উত্তেজনা এড়াতে চায়। ট্রাইব্যুনালের রায় ঘোষণার পর ভারতের সঙ্গে প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় তাকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে।
প্রধান উপদেষ্টা স্পষ্ট করে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার কোনো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেবে না, বরং এটি রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। আওয়ামী লীগ আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে কি না, তা দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর সম্মতির উপর নির্ভর করবে।
ড. ইউনূস নিশ্চিত করেন, তার নিজের রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার বা কোনো রাজনৈতিক দল গঠনের ইচ্ছা নেই। তিনি জানান, নির্বাচনের রূপরেখা এখনও চূড়ান্ত করা হয়নি। তাদের কাজ শুধুমাত্র স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনা এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার করা। নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পর রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
এই প্রসঙ্গে আরও জানতে পড়ুন: বিদেশে পাচার হওয়া টাকা পুনরুদ্ধারে কাজ শুরু : ড. ইউনূস
ড. ইউনূসের মতে, শেখ হাসিনাসহ ৪৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল, এবং রায় ঘোষণার পর সরকার তাকে ফেরত আনতে উদ্যোগ নেবে।
ফিন্যান্সিয়াল টাইমস জানায়, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে প্রায় ৮০০ জন নিহত হয়েছেন বলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়। তবে হিন্দুদের বিরুদ্ধে নৃশংসতার কোনো প্রমাণ মানবাধিকার সংস্থাগুলো নিশ্চিত করতে পারেনি।
ড. ইউনূস দাবি করেন, হিন্দুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার কিছু ঘটনা ঘটেছে এবং খুব কম সংখ্যক প্রাণহানি হয়েছে। তিনি বলেন, এসব ঘটনা ধর্মীয় কারণে নয়, বরং আওয়ামী লীগের সমর্থক হওয়ায় তাদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, আগস্টে সংঘটিত হামলার শিকার বেশিরভাগ হিন্দু আওয়ামী লীগের সমর্থক ছিলেন, এবং বিষয়টি ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।
গত ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মুখে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিরোধী দলগুলো দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনামলে নির্বাচনী কারচুপি ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডসহ নানা অপরাধে তাকে অভিযুক্ত করেছে।
