শেখ মুজিব অবিসংবাদিত নেতা হলেও দেশ সামলাতে পারেননি: জামায়াত আমির

নিউজ ডেস্ক:

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘শেখ মুজিব ছিলেন অবিসংবাদিত নেতা। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে দেশের বেশির ভাগ মানুষ তাঁর প্রতি আস্থা রেখেছিল। কিন্তু আক্ষেপের বিষয়—এমন আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা আর মানুষের ভালোবাসা নিয়ে দেশের দায়িত্ব নেওয়ার পরও তিনি দেশকে সামলাতে পারেননি। নিজের দলকেই ঠিকভাবে সামলাতে পারেননি।

জামায়াতের আমির বলেন, ‘এ জন্য তিনি আক্ষেপ করে বলেছেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ যখন স্বাধীন হয়, তারা সম্পদের খনি পায়। আমি পেয়েছি…কিসের খনি আর বললাম না।’

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর মিরপুরের রূপসী প্রো-অ্যাকটিভ ভিলেজ রোডে অনুষ্ঠিত জামায়াতের ঢাকা মহানগর উত্তর আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘স্বাধীনতার পরের শাসনামলে ৩৬ হাজার মানুষকে বিনা বিচারে হত্যা করা হয়েছিল।

তাদের মধ্যে প্রায় ১০ হাজার ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা। যাঁরা দেশের জন্য জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছিলেন, দুঃখজনকভাবে তাঁদেরই মরতে হয়েছে নিজের দেশের মানুষের হাতে।’

তিনি আরো বলেন, ‘সে সময়কার ভুলের প্রায়শ্চিত্ত তিনি তাঁর জীবন দিয়ে করেছেন। অবশ্য সভ্য দুনিয়ায় কোনো পরিবারের সবাইকে হত্যা করার ঘটনাকে কেউ সমর্থন করে না।

তবে নিয়তি যাকে যেখানে নিয়ে যায়, সেভাবেই ঘটে।’ নিজের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি সৌভাগ্যক্রমে ফিরে এসেছি। আল্লাহ কেন আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন, শুধু আল্লাহই জানেন। আমি একজন শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান। আমার কোনো অপরাধ ছিল না।

আমার মতো বহু নিরপরাধ মানুষকে নির্যাতন করা হয়েছিল, অনেকে জীবিত ফিরে আসতে পারেননি।’
জামায়াত আমির বলেন, “যাঁরা বলতেন ‘আমরা পালাই না’—তাঁরা এখন কোথায় আছেন, তা কেউ জানে না।” তিনি বলেন, ‘আমরা কখনোই বলিনি যে আমরা পালাই না, কিন্তু রাব্বুল ইজ্জত আমাদের ওপর এ মেহেরবানি করেছেন—আমরা সত্যিই পালাইনি। ফাঁসির দড়ি গলায় নিয়ে দাঁড়িয়েছি, কিন্তু দেশ থেকে পালাইনি।’

তিনি বলেন, ‘সংস্কারের দিকে যতবার এগোতে চেয়েছি, কেউ না কেউ আমাদের পেছনে টেনে রেখেছে—এটা চাই না, ওটা চাই না, শুধু নির্বাচন। নির্বাচন আগেও হয়েছে। কিন্তু সেই নির্বাচন দেশের জন্য কল্যাণ বা মুক্তি আনতে পারেনি। প্রয়োজন সুষ্ঠু ও অর্থবহ নির্বাচন—পুরনো স্টাইলে নির্বাচন হলে দেশে কেউ কল্যাণ দিতে পারবে না।’

তিনি বলেন, ‘জামায়াত অর্থবহ নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। সব রাজনৈতিক সংগঠন, প্রার্থী ও কর্মীদের অনুরোধ—রাজনীতি যেন রাজনীতি দিয়ে হয়, নীতি দিয়ে হয়। কাদা ছোড়াছুড়ি না করি, পরিবেশ নষ্ট না করি, গায়ের জোর বা কালো টাকা যেন কেউ ব্যবহার না করে মানুষের বিবেক কেনার জন্য।’

তিনি বলেন, ‘দুর্নীতি তোমাকে লাল কার্ড, সন্ত্রাস তোমাকে কালো কার্ড। অবিচারের কোনো স্থান সমাজে হবে না। দুর্নীতিমুক্ত, সামাজিক সুবিচারপূর্ণ, ভারসাম্যপূর্ণ অর্থনীতির একটি দেশ গড়তে যুবকদের মেধার মূল্যায়ন করতে হবে—সে লক্ষ্যেই জামায়াত এগোচ্ছে।’

নারীদের পোশাক নিয়ে প্রচলিত গুজব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মায়েদের ভয় দেখানো হয়—জামায়াত ক্ষমতায় গেলে সবাইকে কালো চাদর পরাবে, শুধু চোখ খোলা রাখবে। ইসলামী বিধানে চোখ খোলারও নিয়ম আছে, মুখ খোলারও নিয়ম আছে। কেউ না ঢাকলে জামায়াতে ইসলামী কাউকে জোর করবে না। কল্যাণ রাষ্ট্রের সৌন্দর্য দেখে নারীরাই শালীন পোশাক গ্রহণ করবেন—এটাই স্বাভাবিক।’

জামায়াত আমিরের সঙ্গে কসোভোর সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সাক্ষাৎ

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকা সফররত রিপাবলিক অব কসোভোর সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. রিফাত লতিফি। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে জামায়াত আমিরের কার্যালয়ে এই বৈঠক হয়।

বৈঠকে জামায়াত আমির বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাত নিয়ে আলোচনা করেন। এ ছাড়া বাংলাদেশের চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ ও ফেলোশিপ দেওয়ার জন্য সাবেক এই স্বাস্থ্যমন্ত্রীর মাধ্যমে কসোভো সরকারের প্রতি আহবান জানান। সৌজন্য সাক্ষাতে কসোভোর সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. রিফাত লতিফির সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত রিপাবলিক অব কসোভোর রাষ্ট্রদূত লুলজিম প্লানা।

জামায়াত আমিরের সঙ্গে ছিলেন দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ মুহাম্মাদ শাহাবুদ্দীন, ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরামের (এনডিএফ) জেনারেল সেক্রেটারি প্রফেসর ডা. মাহমুদ হোসেন, সিনিয়র সহসভাপতি ডা. এ কে এম ওয়ালি উল্লাহ, অফিস সেক্রেটারি ডা. জিয়াউল হক এবং ঢাকা-১৭ আসনে জামায়াতের প্রার্থী ডা. এস এম খালিদুজ্জামান।