বিশেষ প্রতিনিধি | শুক্রবার, ৩১ জুলাই
রাজধানীর হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিশেষ অভিযান চালিয়ে প্রায় ২ কোটি ৪ লাখ টাকা মূল্যের অবৈধ পণ্য—বিদেশি সিগারেট, স্বর্ণালংকার, নিষিদ্ধ কসমেটিকস ও মদ জব্দ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। এ ঘটনায় বিদেশে পড়তে যাওয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও বিদেশ থেকে ফেরত আসা স্কলারশিপপ্রাপ্তদের ব্যাগেজ বহনের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) এক বিজ্ঞপ্তিতে কাস্টমস গোয়েন্দা প্রতিনিধিরা জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দুবাই থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটের (বিজি-১৪৮) লাগেজ বেল্ট থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় এই পণ্যগুলো উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা পণ্যের মধ্যে রয়েছে ‘Mond’ ব্র্যান্ডের ৩৭০ কার্টন বিদেশি সিগারেট, উন্নতমানের স্বর্ণালংকার, নিষিদ্ধ ‘গৌরি ক্রিম’ এবং বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ।
কাস্টমস গোয়েন্দার এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, জব্দ পণ্যগুলোর বিষয়ে কাস্টমস আইন ও ব্যাগেজ বিধিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একই সাথে অপরাধীদের চিহ্নিত করতে তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে।
বিদেশে গমনাগমনকারী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সতর্কতা:
উচ্চশিক্ষায় বিদেশগামী কিংবা স্কলারশিপ নিয়ে পড়ালেখা শেষ করে দেশে ফেরা শিক্ষার্থীদের জন্য শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও ট্রাভেল বিশেষজ্ঞরা বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন:
- অন্যের ব্যাগ বহনে নিষেধাজ্ঞা: বিমানবন্দরে অচেনা বা স্বল্প পরিচিত কারো অনুরোধে কোনো লাগেজ বহন করা থেকে বিরত থাকুন। অনেক সময় শিক্ষার্থী বা সহজ-সরল যাত্রীদের বিভ্রান্ত করে চোরাচালানের কাজে ব্যবহার করা হয়।
- ব্যাগেজ বিধিমালা মেনে চলুন: ব্যক্তিগত লাগেজে শুল্কমুক্ত পণ্যের নির্দিষ্ট সীমা ছাড়িয়ে গেলে বা নিষিদ্ধ দ্রব্যাদি আনলে স্কলারশিপ বাতিলসহ বড় ধরনের আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে।
- অপরিচিতদের কুরিয়ার থেকে দূরে থাকুন: বিদেশের বিমানবন্দরে অনেক প্রবাসী শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে দেশে উপহার পাঠানোর অনুরোধ করেন। ভেতরে কী রয়েছে তা নিশ্চিত না হয়ে কোনো প্যাকেট গ্রহণ করবেন না।
চোরাচালান ও ব্যাগেজ আইন ভঙ্গের বিরুদ্ধে শাহজালাল বিমানবন্দরে কঠোর তদারকি অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।
