নিউজ ডেস্ক :
সাভারে ভয়াবহ রানা প্লাজা ধসের ১২ বছর পূর্ণ হলো আজ, ২৪ এপ্রিল। ২০১৩ সালের এই দিনে আটতলা ভবনের ধ্বংসস্তূপে প্রাণ হারিয়েছিলেন ১ হাজার ১৩৫ জন গার্মেন্টস শ্রমিক, আহত হয়েছিলেন আরও প্রায় দুই হাজার মানুষ। বিশ্বের অন্যতম বড় এই শিল্প দুর্ঘটনা দেশের গণ্ডি পেরিয়ে নাড়া দিয়েছিল গোটা বিশ্বকে।
তবে এক যুগ পার হলেও বিচারিক প্রক্রিয়ায় দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। এখনও থামেনি নিহতদের স্বজনদের আহাজারি, কাটেনি আহতদের মানসিক ও শারীরিক যন্ত্রণা। ১২ বছরেও মামলার নিষ্পত্তি হয়নি, বরং বিচার প্রক্রিয়া চলছে অত্যন্ত ধীরগতিতে।
মামলায় ৫৯৪ জন সাক্ষীর মধ্যে মাত্র ৮৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে, যা মোট সাক্ষীর পাঁচ ভাগের একভাগেরও কম। আরও ৮৪ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে। সর্বশেষ গত ২১ এপ্রিল চারজন সাক্ষ্য দেন; তাদের মধ্যে তিনজনের জেরা শেষ হলেও একজনের জেরা অসম্পূর্ণ থেকে যায়। পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য হয়েছে ২৮ এপ্রিল।
একই ঘটনায় দায়ের করা ইমারত নির্মাণ আইনের মামলাটি উচ্চ আদালতের আদেশে দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত রয়েছে। অভিযোগ গঠনের আট বছর পার হলেও এ মামলায় এখনও সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়নি, যা বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার একটি বড় উদাহরণ।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও শ্রমিক সংগঠনগুলো বলছে, দোষীদের বিচারের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা এবং আহত-নিহত শ্রমিকদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ করাই এখন সরকারের প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত। তারা মনে করেন, ন্যায়বিচার ও মানবিক দায়িত্ব পালনে আরও সক্রিয় হতে হবে রাষ্ট্রকে।
