রাণীপুকুর আবাসন প্রকল্পের জরাজীর্ণ ঘরে মানবেতর জীবন

নিউজ ডেস্ক:

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার রাণীপুকুর ইউনিয়নের আবাসন প্রকল্পের ঘরগুলো এখন জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। বৃষ্টি হলে টিনশেড ঘর ফুটো হয়ে ভেতরে পানি ঢোকে, ফলে পলিথিন মুড়িয়ে রাত পার করতে হয় বাসিন্দাদের। দীর্ঘ ২৩ বছরে কোনো সংস্কার কাজ না হওয়ায় চরম দুর্ভোগে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা।

২০০২ সালে বিএনপি সরকারের আমলে বলদীপুকুর গড় এলাকায় ৩৮টি ব্যারাকে ৩৮০টি ঘর নির্মাণ করে বিতরণ করা হয়। সেখানে দিনমজুর, লেবার, অটোরিকশা চালক, ভ্যানচালক, কৃষি-মজুর, আদিবাসী ও জেলেসহ হতদরিদ্র পরিবারগুলো বসবাস করছেন। তবে নির্মাণের কয়েক বছর পর থেকেই ঘরগুলো ভেঙে পড়তে শুরু করে। এখন টিন মরিচা ধরে ঝাঁঝরা, ছাউনি ভাঙা, দরজা-জানালা নেই, টয়লেট অচল, এমনকি পানির জন্য পর্যাপ্ত টিউবওয়েলও নেই। অনেকেই টিনশেড ঘরগুলোর ওপরে পলিথিন বা ট্রিপল দিয়েছেন। তবুও বৃষ্টি হলে রক্ষা মেলে না এখানকার বাসিন্দাদের। বৃষ্টির পানি ভেতরে পড়ে ভিজে যায় ঘরের প্রয়োজনীয় জিনিস ও আসবাবপত্র। বেশি বৃষ্টি হলেই ঘরগুলো পানিতে টইটুম্বুরও হয়ে যায়।

আবাসনের বাসিন্দা আনিছুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সবাই ছবি তুলতে আসে, কিন্তু ঘরের টিন লাগায় না। ঝড়-বৃষ্টিতে ঘুম হয় না।’

গোলসেনারা বেগম বলেন,  ‘বিএনপির সময় ঘর পাইছি, তারপর আর কেউ খবর নেয় নাই। ধার-দেনা করে মেরামত করারও সামর্থ্য নেই।’

বয়োবৃদ্ধা করিমন্নেছা বেগম জানান, ‘বেশি বৃষ্টি হলে ঘরের ভেতরেও থাকতে পারি না। পলিথিন মুড়িয়ে রাত কাটাই। এটা কোনো জীবন না।’

স্থানীয় বাসিন্দা আবু সাঈদ অভিযোগ করেন, ‘বিএনপি সরকার ঘর নির্মাণ করায় পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে কোনো সংস্কার কাজ হয়নি। ফলে তারা নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।’

রাণীপুকুর ইউপি চেয়ারম্যান আবু ফরহাদ পুটু বলেন, ‘আবাসন প্রকল্পের ঘরগুলো নির্মাণের পর আর কোনো সংস্কার কাজ হয়নি। বাসিন্দারা খুবই কষ্টে আছে। জরাজীর্ণ ঘরগুলো সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ জরুরী হয়ে পড়েছে। উপজেলা মাসিক সভায় এ বিষয়ে অনেকবার বলেছি। কোনো কাজ হয়নি।’

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান জানান, ‘বর্তমানে এ প্রকল্পে কোনো কাজ হচ্ছে না। নতুন প্রকল্প এলে সংস্কার কিংবা নতুন ঘর নির্মাণ করা সম্ভব হবে।’

মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও’র অতিরিক্ত দায়িত্ব) মুহতাসিম বিল্লাহ বলেন, ‘এখন কোনো বরাদ্দ নেই। বরাদ্দ এলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’