আন্তর্জাতিক :
যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রচলিত নিয়ম বাতিলের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে সদ্য নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে, যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুরা আর স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেশটির নাগরিকত্ব পাবে না, যদি না তাদের পিতা-মাতার কোনো একজন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক বা বৈধভাবে বসবাসের অনুমতি প্রাপ্ত হন। এ ঘোষণায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের অভিবাসনপ্রত্যাশীরা।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে জানানো হয়, ট্রাম্প এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত জে ডি ভ্যান্স তাদের প্রচারাভিযানের ওয়েবসাইটে এই ঘোষণা দিয়েছেন। এতে বলা হয়, নতুন প্রশাসন ক্ষমতা গ্রহণের পর এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।
অভিবাসন আইনজীবীরা জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত মার্কিন সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর লঙ্ঘন। অভিবাসন আইনজীবী গ্রেগ সিসকাইন্ড বলেন, “ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্ত সংবিধানবিরোধী। এর ফলে আদালতে সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করা সম্ভব হবে।”
পিউ রিসার্চ সেন্টারের ২০২২ সালের শুমারি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ৩৩ কোটি ৪৯ লাখ জনসংখ্যার মধ্যে অনেক বৈধ-অবৈধ অভিবাসী রয়েছেন, যার মধ্যে বাংলাদেশিরাও আছেন। মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার অন্যতম সহজ উপায় ছিল যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দেওয়া, কারণ এ প্রক্রিয়ায় জন্মসূত্রে শিশুরা নাগরিকত্ব পেয়ে থাকেন। নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জন্য নাগরিকত্ব প্রাপ্তির সুযোগ সীমিত হয়ে যাবে।
আগামী ২০ জানুয়ারি ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জে ডি ভ্যান্স আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন, এবং ওই দিন থেকেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
