নিউজ ডেস্ক :
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর যমুনা নদীর ওপর দেশের দীর্ঘতম রেলসেতুর উদ্বোধন হতে যাচ্ছে মঙ্গলবার (১৮ মার্চ)। নতুন এই সেতুর মাধ্যমে ঢাকার সঙ্গে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের রেল যোগাযোগ আরও সহজ হবে। ৫০টি পিলারের ওপর নির্মিত ৪.৮ কিলোমিটার দীর্ঘ ডাবল লেনের ডুয়েল গেজ সেতু দিয়ে মাত্র সাড়ে তিন মিনিটে যমুনা পার হবে ট্রেন, যদিও প্রথম পর্যায়ে ট্রেন চলবে ৯০ কিলোমিটার গতিতে।
সেতুটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম। উদ্বোধনের পর অতিথিরা ইব্রাহিমাবাদ থেকে সয়দাবাদ পর্যন্ত ট্রেন সফর করবেন এবং সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেবেন। বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক আফজাল হোসেন জানান, এই রেলসেতু চালুর ফলে যাত্রীদের ভোগান্তি কমবে ও সময় সাশ্রয় হবে।
প্রকল্পের ব্যয় প্রথমে ৯,৭৩৪ কোটি টাকা ধরা হলেও সময় বাড়ায় তা বেড়ে ১৬,৭৮০ কোটি ৯৬ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) ৭২.৪০ শতাংশ অর্থায়ন করেছে, বাকি অংশ এসেছে দেশীয় তহবিল থেকে। ১৯৯৮ সালে যমুনা বহুমুখী সেতু চালুর মাধ্যমে রেল যোগাযোগ শুরু হলেও ২০০৮ সালে ফাটল দেখা দেওয়ায় ট্রেনের গতি কমিয়ে দেওয়া হয়। সেই সমস্যা সমাধানে সরকার নতুন রেলসেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয় এবং ২০২০ সালের ২৯ নভেম্বর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
বাংলাদেশ রেলওয়ের চিফ ইঞ্জিনিয়ার তানভীরুল ইসলাম জানিয়েছেন, নতুন প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে সেতুটির স্থায়িত্ব বাড়বে এবং এটি পুনরায় রং করার প্রয়োজন হবে না। ইব্রাহিমাবাদ রেল স্টেশনের স্টেশন মাস্টার শাহীন মিয়া জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে সেতুটি দিয়ে ১২০ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চলবে। নতুন এই রেলসেতুর ফলে দেশের যোগাযোগ, বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
