নিউজ ডেস্ক::
ভারতে চিকিৎসা নিতে যাওয়া নড়াইলের লোহাগড়ার এক নারীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অসত্য তথ্য দিতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে। ওই নারী এক ভিডিও বার্তায় জানিয়েছেন, তাকে কয়েক ঘণ্টা আটকে রেখে মিথ্যা বক্তব্য দিতে বাধ্য করা হয়। এ ঘটনায় স্থানীয়রা নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, এলাকায় হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতি দীর্ঘদিন ধরে অটুট রয়েছে।
নড়াইলের লোহাগড়ার নলদী ইউনিয়নের বাসিন্দা সাবেক ইউপি সদস্য উষা রানী রায়ের অভিযোগ নিয়ে সামাজিক ও গণমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, মাগুরার দিকে দোকান খুলতে পারছেন না এবং লুটপাট হয়েছে। তবে উষা রানী ভিডিও বার্তায় এসব দাবি অস্বীকার করে জানান, তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে এ ধরনের মিথ্যা বক্তব্য দিতে বাধ্য করা হয়।
উষা রানী বলেন, “চারিদিক থেকে ঘিরে রেখে আমাকে চার ঘণ্টা আটকে রাখা হয়। ভয়ে পড়ে আমাকে সবকিছু বলতে বাধ্য করা হয়।”
তার স্বামী সুবাস রায় জানান, “উষা রানী মিথ্যা তথ্য দিতে বাধ্য হয়েছেন। আমাদের এলাকায় হিন্দু-মুসলিম সকলে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছি। এখানে কোনো বিভেদ নেই।”
স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বী এক নারী জানান, “আমরা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা-অর্চনা করছি। এখানে কোনো সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়নি।”
নলদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বলেন, “আমি ৩০ বছর ধরে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছি। এখানে সংখ্যালঘু নির্যাতনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। এমন কোনো প্রমাণও নেই।”
এ বিষয়ে নলদী পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক মোরসালিন জানান, “চেয়ারম্যানসহ আমরা উষা রানীর বাড়িতে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছি। এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হয়েছি যে, এখানে আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রয়েছে।”
স্থানীয়দের দাবি, এ ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির অপচেষ্টা কোনোভাবেই সফল হবে না।
সুত্র: Jamuna TV
