১২ ই আগস্ট ২০২৬ প্রকাশিত সংবাদ
বিশেষ প্রতিবেদন: দুধ না দেওয়া গরুকে আর বোঝা মনে করবেন না কৃষকেরা—এমনই লক্ষ্য নিয়ে উত্তর প্রদেশের বুলন্দশহরে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ চালু করেছে যোগী আদিত্যনাথের সরকার। গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে ও রাসায়নিক সারের বিকল্প তৈরিতে সরকারিভাবে কৃষকদের কাছ থেকে গোমূত্র সংগ্রহের একটি পাইলট প্রজেক্ট শুরু হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে বুলন্দশহরের ১৫টি গ্রাম থেকে প্রতিদিন প্রায় ৫০০ লিটার গোমূত্র সংগ্রহ করা হচ্ছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী দিনে কৃষকদের কাছ থেকে প্রতি লিটার গোমূত্র ২০ রুপি দরে কেনা হবে। সংগৃহীত গোমূত্র সংরক্ষণের জন্য গ্রামগুলোতে ইতিমধ্যে ২০০ লিটার ধারণক্ষমতার বিশেষ ট্যাঙ্ক বসানো হয়েছে। প্রজেক্টটি সফল হলে সমগ্র রাজ্যজুড়ে এটি বাস্তবায়নের জন্য পৃথক নীতি প্রণয়ন করবে উত্তর প্রদেশ সরকার।
প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ও প্রভাব:
কৃষকদের বাড়তি আয়: দুধ উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়া গরুর রক্ষণাবেক্ষণের খরচ উঠে আসার পাশাপাশি কৃষকদের অতিরিক্ত আয়ের সংস্থান হবে।
নারীদের কর্মসংস্থান ও ক্ষমতায়ন: বর্তমানে প্রায় ৩০০ গ্রামীণ নারী এই প্রকল্পের সাথে যুক্ত হয়েছেন। তাঁদের ‘ফার্মার প্রডিউসার অর্গানাইজেশন’ (FPO)-এর শেয়ারহোল্ডার করা হয়েছে। গোমূত্র সংগ্রহে সহায়তা করার জন্য তাঁরা প্রতি লিটারে ২ রুপি করে কমিশন পাচ্ছেন।
জৈব কৃষির প্রসার: সংগৃহীত গোমূত্র প্রক্রিয়াজাত করে রাসায়নিক সার ও বিষাক্ত কীটনাশকের বিকল্প হিসেবে কৃষিকাজে ব্যবহার করা হবে।
উত্তপ্ত রাজনীতির ময়দান:
সরকারের এই নতুন উদ্যোগকে ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক। বিরোধী দল সমাজবাদী পার্টি (SP) এটিকে একটি নতুন ‘কেলেঙ্কারি’ বলে আখ্যা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, আসন্ন নির্বাচনে রাজনৈতিক তহবিল বা ‘ইলেকশন ফান্ড’ সংগ্রহের উদ্দেশ্যেই এমন অবাস্তব প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিতে, সমস্ত অভিযোগ খারিজ করে ক্ষমতাসীন বিজেপি দাবি করেছে, সমাজবাদী পার্টির কাজই হলো সরকারের প্রতিটি জনকল্যাণমূলক ও উন্নয়নমূলক উদ্যোগের বিরোধিতা করা।
জৈব কৃষি ও গ্রামীণ সামাজিক পরিবর্তনের এই অভিনব মডেল শেষ পর্যন্ত রাজ্যের অর্থনীতিতে কতটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।
সূত্র ndtv
