নিউজ ডেস্ক:
বাংলাদেশ ব্যাংকের বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তাদের ৩০০ লকার ফ্রিজ করে তদন্তের অনুমতি পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সন্দেহ করা হচ্ছে, এসব লকারে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ ও সম্পদ গোপনে সংরক্ষিত রয়েছে।
ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের নির্দেশে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে লকার খোলার প্রক্রিয়া শুরু হবে। দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর জানিয়েছেন, এই আদেশের ফলে লকারগুলো তল্লাশির আইনি বাধা দূর হয়েছে।
এর আগে, সাবেক ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরীর লকার থেকে বিপুল সম্পদ উদ্ধারের পর দুদক আদালতে আবেদন করে, যাতে অন্যান্য কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত লকারও খুলে তদন্ত চালানো যায়। আদালত এই আবেদন মঞ্জুর করেন।
দুদকের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এস কে সুর চৌধুরীর লকার থেকে ৫৫ হাজার ইউরো, এক লাখ ৬৯ হাজার ৩০০ মার্কিন ডলার, এক হাজার পাঁচ গ্রাম স্বর্ণালংকার এবং ৭০ লাখ টাকার মুদারাবা মেয়াদি আমানত সনদ (এমটিডিআর) উদ্ধার করা হয়। এর পরই বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্যান্য কর্মকর্তাদের লকার তল্লাশির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র শাহরিয়ার সিদ্দিকী জানান, আপাতত নতুন কোনো লকার বরাদ্দ না দেওয়ার জন্য দুদক কেন্দ্রীয় ব্যাংককে চিঠি দিয়েছে। একই সঙ্গে, লকারগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
দুদক মনে করছে, দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা লকার ব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ গোপনে রেখেছেন, যা তদন্তের আগেই সরিয়ে ফেলার আশঙ্কা রয়েছে। তাই একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে লকার খুলে সম্পদ উদ্ধারের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী দুদক এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে।
