নিউজ ডেস্ক :
২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি, বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ ও কলঙ্কিত অধ্যায়—পিলখানা হত্যাকাণ্ড। আধা সামরিক বাহিনীর কিছু বিপথগামী সদস্যের পরিকল্পিত হামলায় সেদিন প্রাণ হারান ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তা। দীর্ঘ ১৬ বছর পরও স্বজনদের অভিযোগ, হত্যাকাণ্ডকে বিদ্রোহ হিসেবে আখ্যা দিয়ে এর প্রকৃত ষড়যন্ত্র আড়াল করা হয়েছে।
সরকার এ বছর ২৫ ফেব্রুয়ারিকে ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করলেও নিহত সেনা কর্মকর্তাদের পরিবারের দাবি, এর নেপথ্যে থাকা মূল ষড়যন্ত্রকারীদের শনাক্ত করা হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর একটি স্বতন্ত্র তদন্ত কমিশন গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা স্বজনদের কাছে ন্যায়বিচার পাওয়ার নতুন আশা তৈরি করেছে।
শহীদ কর্নেল মজিবুল হকের স্ত্রী নেহরীন ফেরদৌসীর মতে, এতদিন অনেক প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়নি বা দেওয়া যায়নি। পরিকল্পিতভাবে সেনা কর্মকর্তাদের হত্যা করা হয়েছিল এবং এই ষড়যন্ত্রে দেশ-বিদেশের শক্তিগুলো জড়িত ছিল। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, সময় যত গড়াবে, মামলার প্রমাণ হারিয়ে যেতে থাকবে। শহীদ লে. কর্নেল রুবি রহমানের ছেলে ডা. কাজী অদ্রি দাবি করেন, বিগত সরকারের ভূমিকা ছিল সন্দেহজনক, আর এ কারণেই এতদিন ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা যায়নি।
পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিচারে ১৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ড, ১৮৫ জনের যাবজ্জীবন এবং ২২৮ জনের বিভিন্ন মেয়াদের সাজা বহাল থাকলেও মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি। বিস্ফোরক আইনের মামলাটি এক যুগ ধরে ঝুলে আছে, যার মধ্যে ১৭৮ জন ইতোমধ্যে মুক্তি পেয়েছেন। নতুন প্রসিকিউটর বোরহান উদ্দিন বিচার বিলম্বের জন্য আগের প্রসিকিউশন টিমকে দায়ী করেছেন এবং জানিয়েছেন, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের কেউ কেউ বিস্ফোরক মামলায় জামিন চেয়েছেন।
নতুন প্রসিকিউশন টিমের অভিযোগ, এখনো কিছু মহল বিচারপ্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। স্বজনদের চাওয়া, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে ষড়যন্ত্রের মূল হোতাদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনা হোক।
