নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত সকল জনগোষ্ঠীর সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা, আন্তঃসাম্প্রদায়িক সৌহার্দ্য সুদৃঢ়করণ এবং জাতীয় সংহতি অক্ষুণ্ণ রাখার লক্ষ্যে ‘অবাঙালি’ সম্বোধন সাংবিধানিকভাবে উল্লেখসহ পার্বত্য অঞ্চলের সকল নাগরিকের সম-অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে ‘সিএইচটি সম্প্রীতি জোট’।
আজ ০৮ আগস্ট ২০২৬, শনিবার ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সংগঠনটির উদ্যোগে আয়োজিত এক শান্তিপূর্ণ ও গঠনমূলক বিক্ষোভ সমাবেশ ও সংহতি সম্মেলনে এই দাবি জানানো হয়। সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, বিভিন্ন রাজনৈতিক-সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের ব্যাপক অংশগ্রহণে সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হয়।
বিভাজনমুক্ত রাজনীতি ও সুষম উন্নয়নের আহ্বান
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার থোয়াই চিং মং চাক। বক্তব্যে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের সংবিধানের মূলভিত্তি হলো সকল নাগরিকের সমান অধিকার ও একক জাতীয় সত্তা। পাহাড়ে বাঙালি ও অ-বাঙালি নির্বিশেষে আমরা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। যেকোনো সম্ভাব্য ভূ-রাজনৈতিক বিভাজন প্রতিহত করতে পরিভাষার ব্যবহারে সাংবিধানিক সামঞ্জস্য রাখা জরুরি।”
তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামকে বিভাজনের রাজনীতি থেকে মুক্ত করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘উপজাতি’ কিংবা ‘সেটলার’-এর মতো দূরত্ব সৃষ্টিকারী পরিভাষা ও মানসিকতা পরিহার করতে হবে। একক কোনো গোষ্ঠীকেন্দ্রিক সুবিধা না দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল সম্প্রদায়ের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য ন্যায়সঙ্গত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করার পাশাপাশি সবার জন্য সমতার ভিত্তিতে আয়কর ছাড়সহ অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণের দাবি জানান তিনি।
অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জোর দাবি
খাগড়াছড়ি জেলার প্রধান সমন্বয়ক নিজাম উদ্দিন তাঁর বক্তব্যে দেশের সার্বভৌমত্ব ও শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে পার্বত্য অঞ্চলে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সশস্ত্র সহিংসতার বিরুদ্ধে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
সম্মেলনে বক্তারা বলেন, “জাতিগত পরিচয় যার যার, বাংলাদেশি পরিচয় সবার”—এই মূল্যবোধকে সামনে রেখে পাহাড়ে বিভাজনমুখী রাজনীতির অবসান ঘটাতে হবে। বৈষম্যহীন উন্নয়ন ও সামাজিক সম্প্রীতি সুদৃঢ় করাই পার্বত্য অঞ্চলের টেকসই শান্তির একমাত্র পথ।
বিশিষ্টজনদের সংহতি
সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জনতার দলের মুখপাত্র ডেল এইচ. খান, অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল হাসিনুর, গণ অধিকার পরিষদের ফারুক হাসান, স্টুডেন্ট ফর সার্বভৌমত্বের সভাপতি জিয়াউল হক, লেখক ও কলামিস্ট এইচ. এম. ফারুক এবং পাহাড়ের সামাজিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে জীবন চাক, মো. রহিম, উথোয়াই মে মারমা, মেন রাও ম্রো, থংপং ম্রো, অং সিং থোয়াই মারমা ও উ সাইন থোয়াই মারমা।
পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত সকল নাগরিকের অধিকার সুরক্ষা, সামাজিক সম্প্রীতি সুদৃঢ়করণ এবং জাতীয় সংহতি রক্ষার যৌথ অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে সমাবেশটি শেষ হয়।
