জাগ্রত পাহাড় ডেস্ক:
২ ডিসেম্বর ২০২৪, ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের আয়োজনে একটি গোলটেবিল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, যুগ্ম সদস্য সচিব, আমার বাংলাদেশ পার্টি। প্রধান আলোচক ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার আলকাছ আল মামুন ভূঁইয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদের নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন আব্দুল হামিদ রানা।
সংবিধানের সাংঘর্ষিক ধারা সংশোধনের আহ্বান
আলোচনায় ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং ভূখণ্ড দেশের সর্বোচ্চ রক্ষিত সীমা। সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক ১৯৯৭ সালের পার্বত্য শান্তি চুক্তির ধারাগুলো সংশোধন করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি উল্লেখ করেন, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ার যে কোনো প্রচেষ্টাকে প্রতিহত করা উচিত।
ভারতের ইকোনমিক জোন নিয়ে উদ্বেগ
তিনি আরও বলেন, “মিরসরাইয়ে ভারতকে প্রায় দেড় হাজার একরের একটি এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোন দেয়া হয়েছে, যা কোনো দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি স্বরূপ।” ফেনী নদীর ব্রিজ ভেঙে গেলে পার্বত্য চট্টগ্রাম আলাদা হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভারত সেখানে গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এসব কর্মকাণ্ড বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সত্তাকে চ্যালেঞ্জ করছে। তিনি অন্তর্বর্তী সরকারকে এই চুক্তি বাতিল করার আহ্বান জানান এবং চায়না, পাকিস্তান ও রাশিয়াকে এখানে ব্যবসার সুযোগ দেয়ার প্রস্তাব রাখেন।
পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়নে সুপারিশ
ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, “পার্বত্য চট্টগ্রামে একটি ‘নাই কমিশন’ গঠন করা উচিত। এই কমিশন ১৭টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও বাঙালির দুঃখ-কষ্ট শুনে তাদের অধিকার নিশ্চিত করবে।”
তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের বাঙালিরাই এই অঞ্চলের মূল আদিবাসী। অন্য নৃগোষ্ঠীগুলো আড়াইশ থেকে তিনশ বছর আগে এখানে এসেছে। পাহাড়ে বাস করলেই আদিবাসী হয়ে যায় না। যেমন, রোহিঙ্গারাও পাহাড়ে বাস করছে, কিন্তু তাদের এ অঞ্চলের ভূমির উপর কোনো দাবি থাকতে পারে না।
সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আপসহীন অবস্থান
তিনি বলেন, “বাংলাদেশ রাষ্ট্র কারও কাছে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আপস করবে না। পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষার আগে আমাদের সীমান্তের নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় সত্তা নিশ্চিত করতে হবে।”
অনুষ্ঠানে বক্তারা একমত পোষণ করেন যে, দেশের স্বার্থে সংবিধান ও শান্তি চুক্তির অসঙ্গতি দূর করা প্রয়োজন। এছাড়া ভারতের সঙ্গে করা ইকোনমিক জোন চুক্তি পুনর্বিবেচনা করে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা অপরিহার্য।
