নিউজ ডেস্ক:
ছিনতাই—একটি ঘৃণিত অপরাধ, যা অন্যায়ভাবে অন্যের সম্পদ হস্তগত করার একটি পথ। এটি শুধু সামাজিক অপরাধ নয়, বরং ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও মারাত্মক গুনাহ। বর্তমান সময়ে পত্রপত্রিকায় ছিনতাইয়ের ঘটনা প্রায়ই প্রকাশিত হয়। অনেক সময় এসব ঘটনায় মানুষের প্রাণহানির মতো ভয়াবহ ঘটনাও ঘটে। অথচ ইসলাম অন্যের সম্পদ অবৈধভাবে গ্রাস করার বিষয়টি কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছে।
কোরআনের নির্দেশনা
পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘তোমরা একে অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভোগ কোরো না এবং এ উদ্দেশ্যে বিচারকের কাছে এমন কোনো মামলা কোরো না যে মানুষের সম্পদ থেকে কোনো অংশ জেনেশুনে গ্রাস করার গুনাহে লিপ্ত হবে।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১৮৮)।
এ আয়াতের মাধ্যমে স্পষ্টভাবে বোঝানো হয়েছে, অন্যায়ভাবে সম্পদ গ্রহণ শুধু মানবিক অপরাধ নয়, বরং আল্লাহর নিকটেও অত্যন্ত ঘৃণিত কাজ।
হাদিসের আলোকে ছিনতাইয়ের নিষিদ্ধতা
রাসুলুল্লাহ (সা.) বিভিন্ন অপরাধ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। আবু রায়হানা (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) ১৯টি কাজ নিষিদ্ধ করেছেন, যার মধ্যে ছিনতাই অন্যতম। তিনি বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি অন্যের সম্পদ ছিনতাই করে, সে আমাদের দলভুক্ত নয়।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৪৩৪০)।
অন্য হাদিসে আরও বলা হয়েছে, ‘কোনো মুমিন অবস্থায় ব্যভিচার করে না, মদ পান করে না, চুরি করে না, কিংবা লুটতরাজ করে না। যে ব্যক্তি লুটতরাজ করে, সে সেই মুহূর্তে মুমিন থাকে না।’ (বুখারি, হাদিস : ২৩১৩)।
এটি স্পষ্ট যে, ছিনতাইয়ের মতো অপরাধ একজন মুমিনের অন্তরে ঈমানের নুর নষ্ট করে দেয়। এমনকি রাসুলুল্লাহ (সা.) এ ধরনের অপরাধীদের তাঁর উম্মতের অন্তর্ভুক্ত বলেও স্বীকার করেননি।
পরকালের শাস্তি
ছিনতাইকারীদের জন্য পরকালে রয়েছে ভয়াবহ পরিণতি। এটি শুধু পৃথিবীতে অপমানের কারণ নয়, বরং পরকালে জাহান্নামের কঠিন শাস্তির মাধ্যম। মহানবী (সা.) এর হাদিসে এই বিষয়টি বারবার উল্লেখ করা হয়েছে।
সমাজে ছিনতাই রোধে উদ্যোগ প্রয়োজন
ছিনতাই প্রতিরোধে শুধু আইন প্রয়োগ যথেষ্ট নয়; সমাজের প্রত্যেক ব্যক্তিকে সচেতন হতে হবে। পাশাপাশি পরিবার ও শিক্ষার মাধ্যমে নৈতিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতে হবে। ধর্মীয় শিক্ষার প্রসার ঘটিয়ে অপরাধপ্রবণতা কমানোর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।
উপসংহার
ছিনতাই একটি গর্হিত অপরাধ, যা একজন মুমিনের জীবনে ঈমানহীনতার প্রমাণ। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে এ ধরনের পাপকর্ম থেকে বিরত থাকার তাওফিক দান করুন এবং পৃথিবী ও পরকালে শান্তি দান করুন। আমিন।
