জাগ্রত পাহাড় ডেস্ক:
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় দেশের দরিদ্র সীমার নিচে বসবাসকারী পরিবারের জন্য নগদ অর্থ এবং জীবিকা সহায়তার উদ্যোগ নিয়েছে। সরকারের ত্রাণ উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম জানিয়েছেন, এই কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারকে প্রতি মাসে ১ হাজার টাকা নগদ সহায়তা এবং জীবিকার জন্য ২ হাজার টাকা প্রদান করা হবে। এটি বাস্তবায়ন করবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।
মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে অনুষ্ঠিত ‘বন্যা-পরবর্তী পুনরুদ্ধার এবং পুনর্বাসন প্রচেষ্টায় করণীয় বিষয়ক বহুপাক্ষিক আলোচনা’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ত্রাণ উপদেষ্টা এ ঘোষণা দেন। ব্র্যাক আয়োজিত এই আলোচনা অনুষ্ঠানে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
প্রাথমিকভাবে দেশের ৭৫টি উপজেলায়, যেখানে ৫০ শতাংশের বেশি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করেন, এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এই উদ্যোগটি আগামী তিন বছর ধরে চলবে এবং ৭৫ হাজার পরিবারকে সহায়তা প্রদান করা হবে। এ প্রকল্পের মোট বাজেট নির্ধারণ করা হয়েছে ৮১৯ কোটি টাকা।
ত্রাণ উপদেষ্টা বলেন, “বন্যাসহ সকল প্রকার প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা, এনজিও, ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান এবং স্বেচ্ছাসেবীদের সহযোগিতা প্রয়োজন।” তিনি সাম্প্রতিক বন্যায় জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতার প্রশংসা করেন এবং তরুণদের ভূমিকাকে গুরুত্ব দিয়ে বলেন, তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল অভাবনীয়।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ফেনী, কুমিল্লা এবং নোয়াখালীর জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধান বর্তমানের প্রধান চ্যালেঞ্জ। এই সমস্যার দ্রুত সমাধানের মাধ্যমে ওই অঞ্চলের জীবন-জীবিকা পুনরুদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হবে।
অনুষ্ঠানের সভাপতি এবং ব্র্যাকের চেয়ারপার্সন ড. হোসেন জিল্লুর রহমান সাম্প্রতিক বন্যায় চ্যালেঞ্জ হিসেবে যোগাযোগ ব্যবস্থা, কৃষি খাত, অবকাঠামো, স্বাস্থ্যসেবা এবং মানসিক স্বাস্থ্য ইত্যাদির উপর আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, এই সকল ক্ষেত্রে পুনর্বাসনের জন্য সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামরুল হাসান এনডিসি, ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ্, ব্র্যাকের আরবান ডেভেলপমেন্ট এবং দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্মসূচির পরিচালক ড. মো. লিয়াকত আলী বক্তব্য রাখেন। এছাড়াও স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. নজরুল ইসলাম, অর্থ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ড. আহমেদ উল্লাহ, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. শরীফ হোসেন, সড়ক ও মহাসড়ক অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. জিকরুল হাসান, এবং জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী এহতেশামুল রাসেল খান বক্তব্য রাখেন।
