নিউজ ডেস্ক:
দেশত্যাগ কিংবা কারাবাস— আওয়ামী লীগ সরকারের এমন শর্তের মুখে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আপসহীন থেকে কারাবাসকেই বেছে নিয়েছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন দলের শীর্ষ নেতারা।
বিএনপির সিনিয়র নেতারা জানান, বিদেশে চলে গেলে তাকে জেলে যেতে হতো না। কিন্তু জনগণ ও দলের স্বার্থে তিনি সমঝোতায় যাননি। আওয়ামী লীগের শাসনামলে কারাবরণের ৭ বছর পূর্তিতে দলটির নেতারা বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েই বিনা অপরাধে কারাগারে যেতে হয়েছিল সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে।
এক-এগারোর সময় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দায়ের করা দুর্নীতির দুটি মামলার কার্যক্রম ২০১৪ সাল থেকে দ্রুত এগিয়ে নেয় আওয়ামী লীগ সরকার। এর জেরেই ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত, যা পরে উচ্চ আদালতে বেড়ে ১০ বছরে দাঁড়ায়। বিএনপি নেতাদের দাবি, এ রায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, “বিরোধী দল ও নেত্রীকে কলুষিত করতেই শেখ হাসিনা সরকারের প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপে এই রায় দেওয়া হয়েছিল।”
রায়ের দিন আদালতে উপস্থিত থেকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধা দেখান খালেদা জিয়া। সাজা ঘোষণার পর তিনি পুরান ঢাকার নির্জন কারাগারে একমাত্র কয়েদি হিসেবে ছিলেন। পরে অসুস্থ হলে পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে বিদেশে নেওয়ার আবেদন করা হলেও শর্ত হিসেবে দেওয়া হয় দেশত্যাগের বিষয়টি। কিন্তু নেতাকর্মী ও জনগণকে ছেড়ে যেতে রাজি হননি তিনি।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, “এরশাদবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০১৮ সালে কারাবরণ পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রে তিনি আপসহীন ছিলেন, যা আজও প্রমাণিত।”
সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, “খালেদা জিয়ার বন্দিত্ব গণতন্ত্র ও সার্বভৌমত্বকে অন্তরীণ করার পাঁয়তারা ছিল।”
২০২১ সালের ২৫ মার্চ কোভিড মহামারির সময় ৩ বছরের বেশি কারাবাসের পর নির্বাহী আদেশে হাসপাতাল থেকে বাসায় ফেরেন খালেদা জিয়া। এরপর থেকে বাসা ও হাসপাতালের মধ্যেই কেটেছে তার সময়।
অবশেষে, গত বছরের আগস্টে সরকার পতনের পর রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন খালেদা জিয়ার মুক্তির ঘোষণা দেন। চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি তার সাজা সম্পূর্ণ বাতিল হয় এবং পরে আপিল বিভাগও তাকে খালাস দেন।