নিউজ ডেস্ক :
গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, জাপান, জার্মানি, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূতদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করা হয়। একইসঙ্গে লন্ডনসহ বিভিন্ন দেশে কর্মরত কয়েকজন কূটনীতিককে ঢাকায় ফেরার নির্দেশ দেয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে ছয় মাস পার হলেও অনেকেই দেশে ফেরেননি, কেউ কেউ আশ্রয় নিয়েছেন তৃতীয় কোনো দেশে।
লন্ডনে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনিমকে গত সেপ্টেম্বরে দেশে ফেরার নির্দেশ দেওয়া হলেও তিনি এখনও বৃটেনেই অবস্থান করছেন। একইভাবে জাপানে রাষ্ট্রদূত সাহাবউদ্দিন কিংবা সৌদি আরবে নিযুক্ত সাবেক পুলিশ প্রধান জাবেদ পাটোয়ারীও দেশে ফেরেননি। বরং তিনি যুক্তরাষ্ট্রে চলে গেছেন। সবচেয়ে আলোচিত হয়েছেন মরক্কোর রাষ্ট্রদূত হারুন আল রশীদ, যিনি সরকারের আদেশ অমান্য করে কানাডায় চলে গিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্কিত বিষয়ে সক্রিয় হয়েছেন।
এ অবস্থাকে অস্বাভাবিক ও অপেশাদার বলে অভিহিত করেছেন বিশ্লেষকরা। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক সাহাব এনাম খান মনে করেন, এই ঘটনা বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে। তিনি বলেন, “যারা রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করেন, তারা প্রশাসনিক নির্দেশনা উপেক্ষা করলে আন্তর্জাতিক মহলে ভুল বার্তা যেতে পারে। এতে দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি ও বিচারিক স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে।”
সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ূন কবিরের মতে, কেউ যদি স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়েন, সেটা তার ব্যক্তিগত বিষয়। তবে যদি রাষ্ট্র বা সরকারের বিরুদ্ধে কোনো ক্ষতিকর অবস্থান নেন, তাহলে স্বাগতিক দেশের সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করে সমাধান খোঁজা যেতে পারে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নিয়মিত কর্মকর্তাদের দ্রুত দেশে ফেরাতে কঠোর অবস্থান নিতে হবে সরকারকে। যাতে প্রশাসনিক কাঠামো সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হয় এবং কূটনৈতিক দায়িত্ব পালনে শৃঙ্খলা বজায় থাকে।
