নিউজ ডেস্ক :
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নতুন এক বাস্তবতায় বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সম্পর্কের জট খুলতে শুরু করে। গত আট মাসেই দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে উল্লম্ফন দেখা যায়—পাকিস্তান থেকে আমদানি দ্বিগুণ হয়, চালু হয় করাচি ও চট্টগ্রাম বন্দরের সরাসরি কনটেইনার জাহাজ চলাচল। এর মধ্যেই ঢাকায় এসেছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্র সচিব আমনা বালুচ। পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠকে দুই দেশ সম্পর্ক উন্নয়নের আগ্রহ দেখালেও পুরনো হিসাব-নিকাশের সমাধান এখনো অধরা।
বৈঠক-পরবর্তী পর্যবেক্ষণে সাবেক রাষ্ট্রদূত মাহফুজুর রহমান বলেন, গত ১৫ বছর বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্ক কার্যত স্থবির ছিল, যা এখন কিছুটা আলোর মুখ দেখছে। তবে তিনি মনে করেন, সম্পর্ক এগিয়ে নিতে হলে সম্ভাবনাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে, অতীতের জটিল ইস্যুগুলো আপাতত আলাদা রাখাই শ্রেয়।
একাত্তরের গণহত্যা, ক্ষতিপূরণ, সম্পদ ফেরতসহ ঐতিহাসিক অমীমাংসিত বিষয়গুলোর প্রসঙ্গও এ সময়ে অনিবার্যভাবে সামনে এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তান যদি এখনই বাংলাদেশের প্রাপ্য অর্থ ফেরত দিতে চায়, তবে তাতে দেশটির বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের এক-তৃতীয়াংশ খরচ হয়ে যাবে। এতে প্রশ্ন উঠছে—বাস্তবতা বিবেচনায় সম্পর্ক কতদূর গড়াবে?
এ বিষয়ে মাহফুজুর রহমানের মত, ক্ষতিপূরণ বা দুঃখপ্রকাশের নির্দিষ্ট অঙ্কের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ঐতিহাসিক সত্যের স্বীকৃতি। তার ভাষায়, একাত্তরের আত্মসমর্পণের সময়ই ক্ষমা ও ক্ষতিপূরণের প্রক্রিয়া শুরু করা যেত। পাকিস্তান যদি এখন অন্তত ক্ষয়ক্ষতির স্বীকৃতি দেয়, সেটাই হবে বড় পদক্ষেপ।
তিনি আরও বলেন, অতীত টেনে আনলে তাৎক্ষণিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আড়ালে পড়ে যায়। বরং পারস্পরিক লাভবান হওয়ার মতো ক্ষেত্রগুলোকে সামনে রেখে অমীমাংসিত ইস্যুগুলো একটি ‘ফোল্ডারে’ রাখা যেতে পারে। যখন সম্পর্ক দৃঢ় হবে, তখনই দেশগুলো স্বতঃস্ফূর্তভাবে সেসব অধ্যায় মীমাংসার পথে এগোবে।
আমনা বালুচের সফরের রেশ কাটতে না কাটতেই আসছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও উপ-প্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার। কূটনৈতিক এই দফায় দফায় সফরকে বিশ্লেষকরা দেখছেন সম্ভাবনার জানালা খুলে দেওয়ার রূপে। তাঁদের মতে, ঐতিহাসিক দায়-দায়িত্ব স্বীকারের পাশাপাশি বর্তমান বাস্তবতাকে কাজে লাগিয়ে এগোতেই হবে বাংলাদেশকে।
