নিউজ ডেস্ক :
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ডিসেম্বরের বাইরে নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার কোনও যুক্তিসঙ্গত কারণ নেই। তাঁর মতে, দেশে গণতান্ত্রিক উত্তরণকে রুদ্ধ করতে একটি মহল সচেষ্ট এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তির ঐক্যে ভাঙন ধরাতে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র চলছে।
শনিবার (৩১ মে) রাজধানীর কাকরাইলে জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনাসভায় তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে যারা নির্বাসন, নির্যাতন ও কারাবরণ সত্ত্বেও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন চালিয়ে গেছে, তাদেরই এখন দেশদ্রোহী হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। এই প্রচেষ্টা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং বিএনপির গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে কলঙ্কিত করতে পরিকল্পিত অপপ্রচারে রূপ নিয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, যারা নির্বাচন ও জনগণের অধিকার নিয়ে কথা বলে, তাদেরই দেশের শত্রু হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। কারণ, শাসকগোষ্ঠী চায় না বাংলাদেশ একটি শক্তিশালী গণতন্ত্রে পরিণত হোক। বরং তারা দেশের ভবিষ্যৎ বিদেশনির্ভর করে রাখতে চায় এবং সে লক্ষ্যেই বিএনপি ও তার নেতাকর্মীদের বিদেশি শক্তির এজেন্ট বলে চালানোর অপচেষ্টা চলছে।
নিজ পরিবারের ভোগান্তির প্রসঙ্গ টেনে সালাহউদ্দিন বলেন, “আমার ওপর যা কিছু হয়েছে, তার সবচেয়ে বড় শিকার আমার পরিবার। এমনকি আমাদের সন্তানদেরও মিথ্যা প্রচারের অংশ করে তোলা হচ্ছে।”
তিনি আরও দাবি করেন, নির্বাচন নিয়ে কথা বললেই তা বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা হিসেবে দেখানো হয়। সংস্কারের কথা বলে নির্বাচন বিলম্ব করার নেপথ্যে সরকারের স্বার্থসংশ্লিষ্ট মহল কাজ করছে। তারা নিজেদের কাঙ্ক্ষিত সংস্কার জাতির ওপর চাপিয়ে দিতে চাইছে, যা প্রশ্নবিদ্ধ। ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তিকে দুর্বল করে ফ্যাসিবাদ পুনর্বাসনের একটি পরিকল্পিত প্রয়াস চলছে।
বিএনপি নেতা জানান, আগামী ২ জুন প্রধান উপদেষ্টা দলটিকে আলোচনার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। তবে সালাহউদ্দিন আহমদের স্পষ্ট বক্তব্য, “নির্বাচন ডিসেম্বরে না হওয়ার কোনও যৌক্তিকতা নেই।”
