নিউজ ডেস্ক:
ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে মধ্যস্থতায় শুরু হওয়া যুদ্ধবিরতিতে শান্তির একটি নতুন অধ্যায় সূচিত হয়েছে। গতকাল রোববার এ যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরই ইসরায়েল এবং হামাস জিম্মি বিনিময়ের একটি পদক্ষেপ নেয়। এর আওতায় হামাসের কাছ থেকে মুক্তি পাওয়া তিন ইসরায়েলি নারী জিম্মি রোমি গোনেন, দরোন স্ট্রেনব্রেচার এবং এমিলি দামারিকে তেল আবিবে তাদের মায়েদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর এক ভিডিওতে দেখা গেছে, তিনজনের শারীরিক অবস্থা মোটামুটি ভালো থাকলেও জিম্মি অবস্থায় এমিলি দামারি তার দুটি আঙুল হারিয়েছেন। তবুও মুক্তির মুহূর্তে তার উজ্জ্বল মুখ ও উল্লাস ইসরায়েলি জনতাকে আবেগাপ্লুত করেছে।
অন্যদিকে, ইসরায়েল পশ্চিম তীর এবং জেরুজালেমের কারাগার থেকে ৯০ জন ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে। তাদের মধ্যে ২১ জন কিশোর এবং ৬৯ জন নারী রয়েছেন। রামাল্লায় তাদের আগমন উপলক্ষে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। আতশবাজি আর স্লোগানে রামাল্লার আকাশ মুখরিত হয়। এ বিষয়ে হামাস জানিয়েছে, এটি দীর্ঘদিন ধরে বন্দি থাকা ফিলিস্তিনিদের জন্য একটি বড় সাফল্য।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের আকস্মিক হামলায় ইসরায়েলে ১,২০০ জন নিহত এবং ২৫০ জন জিম্মি হয়েছিলেন। এর পাল্টা প্রতিশোধ নিতে ইসরায়েল গাজায় ভয়াবহ আক্রমণ চালায়। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মতে, এই অভিযানে ৪৭ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হন এবং ২৩ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়। নিহত হয় ৪০০ ইসরায়েলি সৈন্যও।
কাতার, মিশর এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় চলমান এ যুদ্ধবিরতি শান্তি প্রতিষ্ঠার একটি সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে। প্রথম ধাপে তিন ইসরায়েলি নারী জিম্মি মুক্তি পেলেও ধাপে ধাপে আরও বন্দি মুক্তির বিষয়ে উভয়পক্ষ সম্মত হয়েছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, “জাতি তাদের গ্রহণ করেছে। তারা ঘরে ফিরেছে।”
