নিউজ ডেস্ক:
বুধবার (১৬ অক্টোবর) আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে পাঠানো একটি বিবৃতিতে অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের সমালোচনা করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বর্তমান সরকার মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধকে ক্ষুণ্ণ করার জন্য ধারাবাহিকভাবে কাজ করে চলেছে। তাদের পদক্ষেপে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে বিশ্বাসী ব্যক্তিরা শত্রুজ্ঞান করছেন এবং রাজনৈতিকভাবে নির্মূল করার লক্ষ্যে রাষ্ট্রযন্ত্রের অপব্যবহার করছে।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদান এবং মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি জাতির জন্য অমলিন। সরকার প্রতিহিংসাপরায়ণ মনোভাব নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বিলোপ করার চেষ্টা চালাচ্ছে এবং জাতীয় দিবসগুলো বাদ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে, যা ইতিহাসের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শনের শামিল।
সরকারের সিদ্ধান্তের আওতায় ইউনেস্কোর স্বীকৃত ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ দিবস, ১৭ মার্চ জাতীয় শিশু দিবস এবং ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসের মতো দিনগুলো বাদ দেওয়ার কথা রয়েছে। এই দিবসগুলো বাতিলের পেছনে প্রতিহিংসা এবং বিদ্বেষপূর্ণ মানসিকতা কাজ করছে বলে আওয়ামী লীগ দাবি করেছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে জাতীয় ঐতিহ্যকে মুছে ফেলার প্রয়াস চলছে, যা জাতি ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করবে এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ জাতি ঐক্যবদ্ধভাবে উপযুক্ত জবাব দেবে।
বিবৃতিতে এও উল্লেখ করা হয়েছে যে সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে জাতি ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ দিবসগুলো সামাজিক ও সাংস্কৃতিকভাবে পালন করে স্বাধীনতার চেতনায় পুনরায় উজ্জীবিত হবে। উল্লেখ্য, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে সকালে জানানো হয় যে, আটটি জাতীয় দিবস বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ। এ তালিকায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকীসহ শেখ হাসিনার পরিবারের কয়েকজন সদস্যের জন্মবার্ষিকী অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
আওয়ামী লীগ দাবি করে, সরকারের এই সিদ্ধান্ত জাতির ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে মুছে ফেলার চক্রান্ত, যা প্রতিক্রিয়াশীল শক্তিকে শক্তিশালী করতে পারে। তবে দেশের জনগণ মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বুকে ধারণ করে এ হীন পদক্ষেপের বিরোধিতা করবে এবং ঐক্যবদ্ধভাবে সত্যের পথে এগিয়ে যাবে।
