নিউজ ডেস্ক :
গত বছরের জুলাই-আগস্ট মাসে বাংলাদেশে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থান এবং সে সময়ের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাবলী নিয়ে জাতিসংঘের তথ্য-অনুসন্ধান প্রতিবেদন ৫ মার্চ সদস্য দেশগুলোকে জানাবেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক। এ তথ্য জানিয়েছেন জাতিসংঘের বাংলাদেশ আবাসিক সমন্বয়কারী গোয়েন লুইস।
জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় গত ১২ ফেব্রুয়ারি এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এতে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা এবং ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সহিংস উপাদানগুলো ছাত্র-নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভ দমনে পদ্ধতিগতভাবে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনে যুক্ত ছিল।
ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাক্ষ্য ও অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের দমন করতে রাষ্ট্রীয় নীতির অংশ হিসেবে সহিংস পন্থা ব্যবহার করা হয়। এতে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয় এবং আরও গভীর ফৌজদারি তদন্তের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।
বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনে অনুমান করা হয়েছে, ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্টের মধ্যে ১,৪০০-র বেশি মানুষ নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহত হয়ে থাকতে পারেন। নিহতদের ১২-১৩ শতাংশ শিশু ছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। বাংলাদেশ পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সে সময় ৪৪ জন পুলিশ সদস্যও নিহত হন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আন্দোলনের সূচনা হয় সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা পুনর্বহালের উচ্চ আদালতের রায়ের পর। তবে এর পেছনে প্রশাসনিক দুর্নীতি ও বৈষম্যজনিত ক্ষোভ কাজ করছিল। ক্ষমতা ধরে রাখতে তৎকালীন সরকার সহিংস পন্থায় বিক্ষোভ দমনের চেষ্টা করেছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
