২২ শে আগস্ট ২০২৬
বিশেষ প্রতিনিধ
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পরও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ বা ছুটিতে যাওয়ার বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেননি ড. খলিলুর রহমান। তিনি জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাকে এক বছরের জন্য পূর্ণকালীন দায়িত্ব পালনের সুযোগ দিয়েছেন।
এর আগে ড. খলিলুর রহমান বলেছিলেন, ‘আমি কি পদত্যাগ করবো? না, আমার প্রধানমন্ত্রী আমাকে খুব পরিষ্কারভাবে বলেছেন, তিনি আমাকে এক বছরের জন্য পূর্ণকালীন চাকরি করার জন্য ছেড়ে দেবেন। পদত্যাগ একমাত্র বিকল্প নয়, আমি ছুটি পেতে পারি।’
তবে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হয়ে দেশে ফেরার পর গত ৪ জুন সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে ছুটিতে যাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে এতটা ব্যস্ত হওয়ার কিছু নেই। এ ক্ষেত্রে আগের নজিরও রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ড. খলিলুর রহমান উদাহরণ হিসেবে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, প্রায় ৪০ বছর আগে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। সে সময় তিনি তার একান্ত সচিব হিসেবে কাজ করেছেন। তাঁর দাবি, হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী একই সময়ে দুই দায়িত্বই পূর্ণকালীনভাবে পালন করেছিলেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে প্রযুক্তির উন্নতির কারণে একসঙ্গে দুটি দায়িত্ব পালন করা আরও সহজ হয়েছে। তাই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বের পাশাপাশি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করাকে তিনি অস্বাভাবিক মনে করছেন না।
জার্মানির সাবেক এক পররাষ্ট্রমন্ত্রীর উদাহরণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ওই ব্যক্তি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ ছেড়ে অন্য দায়িত্ব পালন করেছিলেন মূলত তার রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী পরাজয়ের কারণে। বিষয়টি বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করা ঠিক নয় বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
এদিকে আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন। এবারের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন ড. খলিলুর রহমান। ফলে একই সময়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব কীভাবে সমন্বয় করা হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
