বিশেষ প্রতিবেদক | ১৩ আগস্ট, ২০২৬
কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চকরিয়ায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় চারজন নিহত এবং অন্তত পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন। যাত্রীবাহী বাস ও লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে চকরিয়া থানাধীন খুটাখালী ইউনিয়নের নয়াপাড়া বায়তুল মামুর জামে মসজিদের সামনে মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
দুর্ঘটনার বিবরণ
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নোয়াখালী সদর থেকে ছেড়ে আসা ‘লাল সবুজ পরিবহন’-এর একটি যাত্রীবাহী বাস কক্সবাজারের দিকে যাচ্ছিল। বিপরীত দিক থেকে ইদগাঁও থেকে যাত্রী নিয়ে একটি লেগুনা (জিটু গাড়ি) চকরিয়ার দিকে রওনা হয়।
যানবাহন দুটি খুটাখালী নয়াপাড়া এলাকায় পৌঁছালে দ্রুতগামী বাসটি লেগুনাটিকে সজোরে চাপা দেয়। এতে লেগুনাটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ভেতরে থাকা যাত্রীরা মারাত্মকভাবে আহত হন।
নিহতদের পরিচিতি
দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো চার ব্যক্তি হলেন:
- মো. জসিম উদ্দিন (২৫) — পিতা: মৃত মতিউর রহমান (সেগুনবাগিচা, খুটাখালী, চকরিয়া)
- মো. শাহেদ (২৭) — পিতা: মৃত মনজুর আলম (ফুলছড়ি শিয়াপাড়া, চকরিয়া)
- মোহাম্মদ রফিক (২৮) — পিতা: মৃত আবুল কাশেম (ইদগাঁও)
- মো. জিয়াবুল হক (২৫) — পিতা: আমিনুল হক (ইদগাঁও)
উদ্ধার অভিযান ও বর্তমান অবস্থা
দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা এগিয়ে এসে আশঙ্কাজনক অবস্থায় আহতদের উদ্ধার করেন। তাদের দ্রুত কক্সবাজার সদর হাসপাতাল এবং মালুমঘাট খ্রিস্টান মেমোরিয়াল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে শাহেদ, রফিক ও জিয়াবুল—এই তিনজনের মৃত্যু হয়। অন্যদিকে মালুমঘাট খ্রিস্টান মেমোরিয়াল হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন জসিম উদ্দিন।
পুলিশের বক্তব্য:
মালুমঘাট হাইওয়ে থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ওসমান গনি জানান, আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নিহতদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও লেগুনাটি জব্দ করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
