নিজস্ব প্রতিবেদক।
খাগড়াছড়ি জেলায় ১৪৪ ধারা জারির মধ্যেও সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ভোর থেকে অবরোধের নামে বিভিন্ন স্থানে টায়ার জ্বালিয়ে পিকেটিং করছে জুম্ম ছাত্র-জনতার ব্যানারে পার্বত্যাঞ্চলের কয়েকটি বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনের কর্মীরা। এতে জেলার অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার যান চলাচল বন্ধ হয়ে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বাড়তি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হলেও বাজার ও আশপাশের দোকানপাট খোলেনি। প্রয়োজনীয় কাজে যারা বের হচ্ছেন, তাদের নিরাপত্তায় বাহিনী সার্বিক সহযোগিতা করছে। তবে এ পর্যন্ত বড় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার কাজী ওয়াজেদ আলী বলেন, “গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। অবরোধ ঘিরে নাশকতা ঠেকাতে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় আছে।”
সেনা–বিজিবির ওপর হামলা
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যমতে, গতকাল (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে গুইমারা উপজেলার রামসু বাজার এলাকায় ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে অবরোধ কর্মসূচি পালনকালে ইউপিডিএফ কর্মী ও সন্ত্রাসীরা বাঙালি জনগোষ্ঠীর সাথে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় জড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গেলে সেনাবাহিনীর উপর দেশীয় অস্ত্র, ইট-পাটকেল, গুলতি ও লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালানো হয়। এতে সেনাবাহিনীর ৩ জন কর্মকর্তা ও ১০ জন সদস্য আহত হন।
একই সময়ে রামগড় এলাকায় বিজিবির গাড়ি ভাঙচুর ও সদস্যদের আহত করার ঘটনাও ঘটে। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে রামসু বাজার সংলগ্ন পাহাড় থেকে ইউপিডিএফ (মূল) এর সশস্ত্র সদস্যরা ৪/৫ দফায় প্রায় ১০০–১৫০ রাউন্ড গুলি চালায়। এতে সংঘর্ষে স্থানীয় বাসিন্দারা গুলিবিদ্ধ হন। পরে সেনাবাহিনী দ্রুত অভিযানে গেলে সন্ত্রাসীরা এলাকা ত্যাগ করে।
সংঘর্ষ চলাকালে ইউপিডিএফের বহিরাগত দুষ্কৃতিকারীরা বাজার ও বসতঘরে অগ্নিসংযোগ করে। পরে অতিরিক্ত সেনাদল মোতায়েনের মাধ্যমে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
নাশকতার অভিযোগ
অভিযোগ উঠেছে, ইউপিডিএফ এবং তাদের অঙ্গসংগঠনসমূহ নারী ও স্কুলগামী শিশুদের জোরপূর্বক নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করছে। একই সঙ্গে বহিরাগত সন্ত্রাসীদের অস্ত্রসহ পার্বত্যাঞ্চলে নিয়ে এসে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা উসকে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ হঠাৎ পাহাড়ে অস্থিরতার নেপথ্যে কারা আছে, তা খুঁজে বের করার আহ্বান জানিয়েছেন।
ধর্ষণ মামলার জেরে উত্তেজনা
উল্লেখ্য, গত ২৩ সেপ্টেম্বর রাতে প্রাইভেট পড়ে ফেরার পথে এক কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। পরে অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শয়ন শীল (১৯) বর্তমানে পুলিশ রিমান্ডে রয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনগুলো সহিংস আন্দোলনের নামে নাশকতা শুরু করে।
জান-মাল রক্ষায় গত শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর থেকে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা ও পৌরসভা এলাকায় অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করে জেলা প্রশাসন। একইসঙ্গে গুইমারা উপজেলাতেও ১৪৪ ধারা অব্যাহত রয়েছে।

