নিউজ ডেস্ক:
চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালী থানার লালদিঘী এলাকায় মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সংঘর্ষের ঘটনায় সাইফুল ইসলাম আলিফ নামে একজন আইনজীবী নিহত হয়েছেন। এছাড়া সংঘর্ষে আহত হয়েছেন অন্তত ২৭ জন।
নিহত সাইফুল ইসলাম আলিফ চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার বাসিন্দা। তার বাবার নাম জামাল উদ্দিন। আহতদের মধ্যে ৮ জন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চমেকের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক নিবেদিতা ঘোষ জানান, হাসপাতালে আনার পর সাইফুল ইসলামকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
বাংলাদেশ সনাতন জাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর মুক্তির দাবিতে লালদিঘীতে সমবেত হন সনাতন সম্প্রদায়ের নেতাকর্মীরা। তারা প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে আদালত চত্বরে পুলিশের প্রিজনভ্যান আটকে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করলে বিক্ষোভকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে রঙ্গম কনভেনশন হলের সামনে অবস্থান নেয়।
এরপর আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর অনুপস্থিতিতে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ এবং দুপক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এতে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম নিহত হন এবং শ্রীবাস দাশ, শারকু দাশ, ছোটন, সুজিত ঘোষ, উৎপল ও এনামুল হকসহ ৮ জন গুরুতর আহত হন।
সংঘর্ষে আহত আরও ১৯ জন চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আব্দুল মন্নান জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে কেউ মাথায়, কেউ হাতে বা শরীরের অন্যান্য স্থানে আঘাত পেয়েছেন। তবে তারা সবাই আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন।
সংঘর্ষের পর থেকে লালদিঘী-কোর্টবিল্ডিং-কোতোয়ালী এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
সংঘর্ষে নিহত ও আহতের বিষয়ে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
