নিউজ ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ তার দেশের জন্য পারমাণবিক অস্ত্র ধরে রাখার সিদ্ধান্তকে সঠিক প্রমাণ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন। গত মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) প্রকাশিত উত্তর কোরিয়ার সুপ্রিম পিপলস অ্যাসেম্বলিতে দেয়া এক ভাষণে ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে ‘রাষ্ট্রীয়ভাবে সন্ত্রাস ও আগ্রাসনে’ পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ করেছেন। যদিও এক্ষেত্রে তিনি সরাসরি ইরানের নাম উল্লেখ করেননি।কিম বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে’ যে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ ও ‘মিষ্টি কথায়’ প্রলুব্ধ না হয়ে পারমাণবিক অস্ত্রাগার ধরে রাখার সিদ্ধান্ত যথার্থ ছিল। তিনি আরও যোগ করেন, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অবস্থান এখন ‘অপরিবর্তনীয়’।এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘তাৎক্ষণিক’ হুমকি ছিল। এর কয়েক মাস আগেই অবশ্য তিনি বলেছিলেন, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ‘সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস’ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প জানান, ইরানকে পারমাণবিক বোমা তৈরিতে বাধা দেয়াই দেশটিতে হামলা চালানোর অন্যতম কারণ।
উত্তর কোরিয়ার নেতৃত্বের কাছে ইরান সংঘাত দীর্ঘদিনের একটি বিশ্বাসকে আরও জোরালো করেছে। আর তা হলো, যেসব দেশের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র নেই, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তির সামনে ঝুঁকির মধ্যে থাকে। আর যাদের কাছে আছে, তারা তা প্রতিরোধ করতে পারে ।
কিমের ভাষণের সময়টিও গুরুত্বপূর্ণ। সম্প্রতি ট্রাম্প আবারও কিমের সঙ্গে পুনরায় আলোচনার আগ্রহ দেখিয়েছেন। তবে কিমের সাম্প্রতিক বক্তব্য থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট, ভবিষ্যতের কোনও বৈঠক আর আগের মতো হবে না। আগের বৈঠকগুলোতে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ ছিল মূল বিষয়।
এখন যেকোনও বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি চাইবে উত্তর কোরিয়া। উত্তর কোরিয়া ইতোমধ্যে কয়েক ডজন পারমাণবিক ওয়ারহেড তৈরি করেছে বলে ধারণা বিশ্লেষকদের। দেশটির দাবি, তাদের কাছে কার্যকর পারমাণবিক অস্ত্র ও এমন ডেলিভারি সিস্টেম রয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ড পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম।
