নিউজ ডেস্ক :
বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার ছয় মাস পর আসন্ন নির্বাচনকে গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে অবাধ ও সুষ্ঠু হিসেবে অভিহিত করেছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, চলতি বছরের ডিসেম্বর থেকে আগামী বছরের মার্চের মধ্যে যে কোনো সময় নির্বাচন হতে পারে, এবং এটি হবে নিরপেক্ষ ও নির্ভেজাল গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতিফলন।
সাক্ষাৎকারে ড. ইউনূস শেখ হাসিনার শাসনকে “একটি ডাকাতির শাসন” আখ্যা দিয়ে বলেন, তার সময়কালে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর চরম অবক্ষয় হয়েছে। তিনি দাবি করেন, গত বছরের জুলাই-আগস্টে ছাত্রনেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতন ঘটে এবং হাজারো মানুষ প্রাণ হারান। এরপর তিনি ভারত পালিয়ে যান।
দেশের অর্থনৈতিক সংকটের জন্য আগের সরকারের দুর্নীতিকে দায়ী করে ড. ইউনূস বলেন, “শেখ হাসিনার শাসনকাল ছিল লুটপাটের সময়। ব্যাংকিং খাতকে লুটের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছিল, এবং সরকারের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিদেশে পাচার হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনার পরিবারের সদস্যরাও এই আর্থিক কেলেঙ্কারিতে জড়িত ছিলেন।
সাক্ষাৎকারে ভারতের ভূমিকাও উল্লেখ করেন তিনি। শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নিয়ে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ করে ড. ইউনূস বলেন, “ভারত তাকে আশ্রয় দিতে পারে, কিন্তু তাকে দিয়ে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার প্রচেষ্টা বিপজ্জনক।”
এদিকে, নবগঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম দ্য গার্ডিয়ান-কে বলেন, “বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব নয়।”
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রত্যাবর্তন ড. ইউনূসের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হতে পারে। তবে তিনি মনে করেন, ট্রাম্প বিনিয়োগের ভালো সুযোগ দেখতে পারেন এবং বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণে আগ্রহী হতে পারেন। তিনি বলেন, “ট্রাম্প একজন ডিলমেকার। আমি তাকে বলছি, আমাদের সঙ্গে চুক্তিতে আসুন। তবে যাই হোক, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রা থামবে না।”
