অনলাইন ডেস্ক;
মিয়ানমারের সশস্ত্র সংগঠন আরাকান আর্মির হাতে আটক ২২৮ জন জেলের মধ্যে বিজিবির প্রচেষ্টায় ১২৪ জনকে ফেরত আনা হয়েছে। তবে এখনও ১০৪ জন জেলে ১২টি নৌকাসহ ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন। আটক জেলেদের মধ্যে ৯৫ জন বাংলাদেশি ও ১৩৩ জন রোহিঙ্গা।
রবিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিজিবির কক্সবাজার রিজিয়নে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানান রামু সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ মহিউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, টেকনাফ সীমান্তে মাদক পাচারে সরাসরি জড়িত আরাকান আর্মি। রোহিঙ্গা ও দেশীয় সিন্ডিকেটগুলোকেও তারা সহযোগিতা করছে। নাফ নদী ও সমুদ্র উপকূল দিয়ে ইয়াবা, আইসসহ বিভিন্ন মাদক এবং অবৈধ অস্ত্র পাচার হচ্ছে।
কর্নেল মহিউদ্দিন জানান, জান্তা সরকারের পর থেকে সীমান্তের ওপারে আরাকান আর্মি স্থলমাইন পুঁতে রেখেছে। এ বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ২৩টি মাইন বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। তিনি বলেন, আরাকান আর্মি বৈধ কর্তৃপক্ষ না হওয়ায় তাদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা সম্ভব নয়। নন-অফিসিয়াল যোগাযোগের মাধ্যমেই আটক জেলেদের ফেরত আনার চেষ্টা চলছে।
মাদকবিরোধী অভিযানের তথ্য তুলে ধরে কর্নেল মহিউদ্দিন জানান, গত ১৫ জুলাই থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ১৪৭টি অভিযান চালানো হয়েছে। এসব অভিযানে ২৮ লাখ পিস ইয়াবা, ৮১৬ গ্রাম ক্রিস্টাল মেথ আইস, ৩৬৫ লিটার বাংলা মদসহ বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ও ২২৬টি বার্মিজ গরুসহ বিভিন্ন চোরাইপণ্য আটক করা হয়। এ সময়ে ১৮৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এদিকে, পশ্চিমবঙ্গে ১৯ বাংলাদেশি মৎস্যজীবীকে আটক করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে পথ হারিয়ে তারা ভারতীয় সীমানায় প্রবেশ করলে সুন্দরবন ব্যাঘ্র প্রকল্পের আওতাধীন খিরোদখালি এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।
জানা গেছে, ১০-১২ দিন আগে ভোলা থেকে সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন ওই মৎস্যজীবীরা। গত শুক্রবার রাতে ট্রলারটি পথ হারিয়ে ভারতের জলসীমায় ঢুকে পড়ে। আটক মৎস্যজীবীদের মাছ, জাল ও ট্রলার জব্দ করা হয়। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর রবিবার তাদের দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুন্দরবন কোস্টাল থানার কাছে হস্তান্তর করে বিএসএফ।
আটক মৎস্যজীবী মো. জাকির জানান, “আমরা মাঝসমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়েছিলাম। কিন্তু ভুলবশত ভারতীয় সীমানায় ঢুকে পড়ি।” অপর আটক মৎস্যজীবী মুহাম্মদ শাবির বলেন, “সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়ে পথ হারিয়ে বাংলাদেশ থেকে ভারতে ঢুকে পড়ায় আমাদের আটক করা হয়েছে।”