সব ধর্ম, জাতি ও গোষ্ঠীর একত্রে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের মাধ্যমে একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর মেরুল বাড্ডায় আন্তর্জাতিক বৌদ্ধবিহারে পবিত্র কঠিন চীবর দান উৎসব ও জাতীয় বৌদ্ধধর্মীয় মহাসম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
সেনাপ্রধান বলেন, “ইসলাম, বৌদ্ধ, হিন্দু, খ্রিষ্টানসহ অন্য সকল ধর্মের অনুসারী একসঙ্গে কাজ করে, একে অপরকে সম্মান করে এবং পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে চায়।” সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত তুলে ধরে তিনি বলেন, “যখন আজান হচ্ছিল, তখন সম্মেলনের আয়োজনকারী সকলে একত্রে সিদ্ধান্ত নেন যে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে আজান শেষ হওয়ার পর অনুষ্ঠান শুরু করবেন। এর মাধ্যমে ধর্মীয় বোঝাপড়া ও মমত্ববোধের যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হয়েছে, তা সত্যিই অতুলনীয়।”
তিনি বৌদ্ধ সম্প্রদায়কে আশ্বস্ত করে বলেন, “আপনারা আপনাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদি যাতে নিশ্চিন্তে পালন করতে পারেন, সে জন্য আমরা সর্বাত্মক নিরাপত্তা দিতে প্রস্তুত। দুর্গাপূজায়ও আমরা নিরাপত্তা দিয়েছি, যার ফলে পূজা সুন্দর ও নিরাপদে উদযাপন করা সম্ভব হয়েছে।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের ধন্যবাদ জানিয়ে সেনাপ্রধান বলেন, “থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম ও অস্ট্রেলিয়ার কূটনীতিকদের এখানে দেখে খুব ভালো লাগছে। থাইল্যান্ডের দূতাবাস এই দেশে বেশ কিছু বৌদ্ধমন্দির নির্মাণে আর্থিক সহায়তা করেছে, যা বাংলাদেশের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের জন্য বিশেষ অবদান।”
পার্বত্য জেলার প্রসঙ্গে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, “পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি ও সম্প্রীতির লক্ষ্যে কাজ করে আমরা চাই, সেখানে পাহাড়ি ও বাঙালি সবাই মিলেমিশে বসবাস করতে পারে। এটি বাস্তবায়নে সেনাবাহিনী কাজ করে যাচ্ছে।”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ বৌদ্ধ ফেডারেশনের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত মাকাওয়াদি সুমিতমোর, ভিয়েতনামের রাষ্ট্রদূত ন্যুয়েন মান কুঅং এবং অস্ট্রেলিয়ার ডেপুটি হাইকমিশনার নারদিয়া সিম্পসন।
