নিউজ ডেস্ক:
দেশে আমদানি-রফতানির নামে বিপুল অর্থপাচারের অভিযোগ উঠেছে নাসা গ্রুপের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার ও তার জামাতা মোজাম্মেল হোসেনের বিরুদ্ধে। বিশেষ করে, মদিনা ডেটস অ্যান্ড নাটস ও ফ্লেমিংগো নামে দুটি প্রতিষ্ঠানের আমদানি কার্যক্রমে অস্বাভাবিক মূল্য নির্ধারণের মাধ্যমে এই অর্থপাচার করা হয়েছে বলে সন্দেহ করছে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।
যমুনা টেলিভিশনের অনুসন্ধানে জানা গেছে, দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে আমদানি করা কমলার প্রকৃত বাজারমূল্য দুইশ টাকার কম হলেও প্রতিষ্ঠানটি কাগজে-কলমে দেখিয়েছে প্রায় আটশ টাকা। বিপরীতে, খেজুর আমদানির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাজারদরের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে কম মূল্য দেখিয়ে বাকি অর্থ হুন্ডির মাধ্যমে পাচার করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এছাড়া, নজরুল ইসলাম মজুমদারের মালিকানাধীন ফিরোজা গার্মেন্টস ১০ বছরে ১১৯ কোটি ডলারের রফতানি আদেশ পেলেও, এর মধ্যে ১১ লাখ ৫৫ হাজার ডলার দেশে ফেরত আসেনি। আর্থিক গোয়েন্দাদের মতে, এটি অর্থপাচারের সুস্পষ্ট ইঙ্গিত।
এ বিষয়ে ব্যাংক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আমদানি মূল্য বেশি দেখিয়ে ট্যাক্স ফাঁকি দেওয়া ও অর্থপাচার করা হয়, যা ফৌজদারি অপরাধ। আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নজরুল ইসলাম মজুমদারের এই কার্যক্রম ব্যক্তিগত প্রভাবের সুযোগ নিয়ে করা হয়েছে, যা বিস্তারিত তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
এ ব্যাপারে নাসা গ্রুপের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, বিএফআইইউ বলছে, নজরুল ইসলাম মজুমদারের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আরও গভীর তদন্ত করা হবে, যাতে অর্থপাচার চক্রের মূল হোতাদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
