নিউজ ডেস্ক:
দিনাজপুরের হিলির মাধবপাড়া এলাকায় বসেছে অস্থায়ী পাইকারি আলুর হাট। এখানকার আগাম জাতের আলু স্থানীয় কৃষকদের জন্য এনে দিয়েছে নতুন সম্ভাবনা। সরাসরি জমি থেকে তুলে আনা আলু বিক্রি করতে পারায় কৃষকরা যেমন লাভবান হচ্ছেন, তেমনি পাইকাররাও ঝামেলামুক্ত পরিবেশে ব্যবসা করছেন। প্রতিদিন এই হাটে ৩৫০০ থেকে ৪০০০ মণ আলু বেচাকেনা হচ্ছে।
মাধবপাড়ার এই অস্থায়ী হাটটি কৃষকদের জন্য বেশ উপকারি। এখানে ইজারার টাকা দিতে হয় না এবং আলু বিক্রিতে অতিরিক্ত কোনো খরচ নেই। কৃষক মুখসেদুল বলেন, “গ্রামে হাট হওয়ায় ভ্যান ভাড়া ও অন্যান্য বাড়তি খরচ বাঁচছে। বর্তমানে প্রতি মণ আলু ২০০০ থেকে ২২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আমাদের জন্য বেশ লাভজনক।”
এই হাটে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা আসছেন। প্রতিদিন প্রায় ১০-১৫টি ট্রাকে আলু দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হচ্ছে। পাইকাররা জানান, হাটে ঝামেলাবিহীন কেনাবেচা হচ্ছে।
হাটের আড়তদার দেলোয়ার হোসেন জানান, এই হাটের আলুগুলো ছোট্ট যমুনা নদীর আশপাশের জমিতে উৎপাদিত। এখান থেকে ঢাকা, ময়মনসিংহ, কুষ্টিয়া, পাবনাসহ বিভিন্ন জেলায় আলু পাঠানো হয়। হাটটি স্থানীয় আড়তদার, শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছে।
হাকিমপুর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা আরজেনা বেগম বলেন, “আবহাওয়া অনুকূলে থাকার পাশাপাশি কৃষি বিভাগের প্রচারণার ফলে চলতি মৌসুমে আগাম আলুর ফলন ভালো হয়েছে। এ বছর উপজেলায় ১০৪২ হেক্টর জমিতে আলু আবাদ হয়েছে।”
আলুর ভালো দাম, সহজ বাজার ব্যবস্থাপনা, এবং সরকারি সহযোগিতার ফলে কৃষি অর্থনীতি এগিয়ে যাচ্ছে। আগাম আলুর এই সফলতা শুধু হিলির মাধবপাড়া নয়, দেশের অন্যান্য অঞ্চলের কৃষকদের জন্যও দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে।
