সজল দত্তের অনুরোধে চট্টগ্রাম পূজা মণ্ডপে গান করেন শিল্পীরা

নিউজ ডেস্ক:


চট্টগ্রাম নগরীর জেএম সেন হলের পূজামণ্ডপে একটি ইসলামিক গান পরিবেশনের ঘটনায় পূজা উদযাপন কমিটির যুগ্ম সম্পাদক সজল দত্তকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় শুক্রবার (১১ অক্টোবর) দুপুরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) রইছ উদ্দিন জানিয়েছেন, পূজামণ্ডপে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সময় সজল দত্তের অনুরোধে চট্টগ্রাম কালচারাল একাডেমির কিছু সদস্য দুটি ইসলামিক গান পরিবেশন করেন। এর একটি গানের শব্দচয়ন ধর্মালম্বীদের অনুভূতিতে আঘাত হানে বলে অভিযোগ ওঠে।

উপ-কমিশনার বলেন, “পূজামণ্ডপে এই ধরনের ঘটনা আমাদের নজরে এসেছে। সন্ধ্যার পর শুরু হওয়া সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সজল দত্তের আমন্ত্রণে কিছু শিল্পী ইসলামিক গান পরিবেশন করেন। এ ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেয়। উক্ত ঘটনায় দুইজনকে আটক করা হয়েছে এবং পূজা উদযাপন কমিটির দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের প্রক্রিয়া চলছে।”

আটককৃতরা হলেন শহীদুল করিম (৪২) ও মো. নূরুল ইসলাম (৩৪)। শহীদুল করিম তানজিমুল উম্মাহ মাদরাসার শিক্ষক এবং মো. নূরুল ইসলাম মারুল ইরফান একাডেমীর শিক্ষক। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানায়, ওই দুজনের সঙ্গে আরও কয়েকজন গান পরিবেশন করেছিলেন, যাদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। উপ-কমিশনার রইছ উদ্দিন আরও জানান, “এই ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন, এবং আমরা পূজা উদযাপন কমিটির দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলছি।”

এদিকে, চট্টগ্রাম মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি লায়ন আশীষ কুমার ভট্টাচার্য পূজামণ্ডপে একটি জনসভায় এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, “যুগ্ম সম্পাদক সজল দত্তকে কমিটি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিলে আমাদের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া থাকবে না। আমরা চাই ধর্মীয় স্থানে সকলের সম্মান বজায় থাকুক এবং এমন ঘটনা পুনরাবৃত্তি না হয়।”

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ঘটনার সাথে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে আরো কেউ জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পূজামণ্ডপে এ ধরনের ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত এবং এর ফলে উৎসবমুখর পরিবেশ নষ্ট হয়েছে বলে জানিয়েছেন পূজা উদযাপন কমিটির অন্যান্য সদস্যরা।

স্থানীয় সূত্র জানায়, পূজামণ্ডপে ইসলামী গান পরিবেশনের পর পূজারীদের মধ্যে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। পুলিশি হেফাজতে আটক দুজনের ব্যাপারে বিস্তারিত তদন্ত চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।