আন্তর্জাতিক ডেস্ক;
ইসরায়েলের প্রাণঘাতী হামলার পর মুসলিম বিশ্বের নেতারা শিঘ্রই একজোট হতে চলেছেন। কাতার, যেখানে হামলার শিকার হয়েছেন দেশটির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে, জরুরি ভিত্তিতে আরব ইসলামিক সম্মেলন ডেকেছে।
আগামী রবিবার ও সোমবার দোহায় বসতে যাওয়া এই সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম দেশের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকবেন।
কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান আলথানী জানিয়েছেন, ইসরায়েলের হামলার জবাবে আঞ্চলিক প্রতিক্রিয়া প্রস্তুত হচ্ছে। তিনি বলেন, “উপসাগরীয় অঞ্চলকে বিশৃঙ্খলার দিকে ঠেলে দেওয়ার জন্য ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতনিয়াহু দায়ী।”
ইসরায়েলের হামলার পরপরই কাতার অন্যান্য আরব ও ইসলামিক দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে। ইতিমধ্যে দোহায় অবস্থান করছেন সৌদি আরব, আরব আমিরাত ও জর্ডানের নেতারা। হামলার পর সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান, জর্ডানের ক্রাউন প্রিন্স হুসাইন এবং সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানও কাতারে পৌঁছেছেন।
এ হামলা কাতারের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। ৯ সেপ্টেম্বর কাতারের দোহায় হামাস নেতাদের লক্ষ্য করে ১৫টি যুদ্ধবিমান নিয়ে ইসরায়েলী হামলা চালায়। এ হামলায় ছয়জন নিহত হলেও হামাসের শীর্ষ নেতারা বেঁচে যান।
কাতারের উদ্যোগে আয়োজিত এই আরব ইসলামিক সম্মেলনে আরব লীগ ও ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি)-এর সদস্য দেশগুলোর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হচ্ছে। আরব লীগ ২২টি আরব রাষ্ট্রের আঞ্চলিক সংস্থা, আর ওআইসি ৫৭টি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্রের জোট। তবে এ সম্মেলনে ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কতটা কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা সম্ভব হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কাতারের এই পদক্ষেপ মুসলিম বিশ্বকে একজোট করার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হিসেবে দেখা যেতে পারে।