পাইসিখই মারমা, মুখ্য সমন্বয়ক, সিএইচটি সম্প্রীতি জোট।
ঢাকা | একটি ছবি যেমন হাজার শব্দের চেয়ে বেশি কিছু বলতে পারে, তেমনি কখনো কখনো তা জন্ম দেয় অসংখ্য প্রশ্নের। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবি আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এনে দিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজনীতিকে।
ছবিতে দেখা যাচ্ছে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) প্রধান ও সাবেক গেরিলা নেতা সন্তু লারমা এবং সদ্য সমাপ্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে কার্যনির্বাহী সদস্য পদে জয়ী হওয়া তরুণ ছাত্রনেতা সর্ব মিত্র চাকমাকে। বিজয়ের পরপরই সন্তু লারমার সঙ্গে সর্ব মিত্রের এই ঘনিষ্ঠ সাক্ষাৎ অনেককেই বিস্মিত করেছে।
সর্ব মিত্র চাকমা, একজন মেধাবী ছাত্রনেতা, যিনি ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী’ নামে পরিচিত ছাত্রশিবির-সমর্থিত প্যানেল থেকে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন—এই সাফল্য নিঃসন্দেহে জাতীয় রাজনীতিতে পার্বত্য অঞ্চলের প্রতিনিধিত্বের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। তবে প্রশ্ন উঠছে, এই সাক্ষাৎ শুধুই কি সৌজন্য সাক্ষাৎ, নাকি এর পেছনে রয়েছে বড় কোনো রাজনৈতিক পরিকল্পনা?
বিশ্লেষকরা বলছেন, শান্তিচুক্তির পর তিন দশক পেরিয়ে গেলেও পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থিতিশীলতা এখনো এক অদূর স্বপ্ন। জেএসএস ও ইউপিডিএফ-এর মতো সংগঠনগুলোর অভ্যন্তরীণ কোন্দল, আধিপত্য বিস্তার এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী চিন্তাধারার কারণে আজও পাহাড় উত্তপ্ত। এই প্রেক্ষাপটে একজন জাতীয় ছাত্রনেতার সন্তু লারমার সঙ্গে সাক্ষাৎ নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ।
অনেকে মনে করছেন, পুরনো কাঠামো ধরে রাখতে এবং মূলধারায় প্রভাব বিস্তার করতে চাকমা তরুণরা এখন পাহাড়ের বাইরের রাজনীতিতে সক্রিয় হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় পর্যায়ে অবস্থান তৈরি করে তারা ‘সফট ল্যান্ডিং’ কৌশলের মাধ্যমে পুরনো এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। এই কৌশল অনেকটা সেই পথে হাঁটছে যা আগে ছাত্রশিবির অনুসরণ করত—মূলধারার রাজনীতিতে ভিন্ন পরিচয়ে অনুপ্রবেশ।
সন্তু লারমার সঙ্গে সর্ব মিত্র চাকমার সাক্ষাৎ এই তত্ত্বকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তোলে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটা নিছক সাক্ষাৎ নয়, বরং ভবিষ্যতের জন্য এক প্রকার ‘পলিটিক্যাল ব্রিফিং’ও হতে পারে।
এমন প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠে আসে রাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে। যারা অতীতে অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছিল, তারা যদি আজও তরুণ প্রজন্মকে একই পথে অনুপ্রাণিত করে, কিংবা নিজেদের আদর্শ প্রতিষ্ঠার জন্য নতুন কৌশলে মূলধারার রাজনীতিতে প্রবেশ করে, তবে তা নিঃসন্দেহে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকির ইঙ্গিত দেয়।
পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এখানকার অস্থিরতা কেবল স্থানীয় নয়, বরং এটি গোটা রাষ্ট্রীয় কাঠামোকে নাড়িয়ে দিতে পারে। তাই এই ছবি, এই সাক্ষাৎ, এবং এই নতুন সমীকরণকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।