ইলিয়াছ সানি
বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ থেকে লামা উপজেলার সকল মসজিদের জন্য ইদ-উল-ফিতরের উদযাপন উপলক্ষে ৫৫ দশমিক ৯০ মে:টন বরাদ্দের চাউল আত্মসাৎ করা অভিযোগ জেলা পরিষদের লামা-আলীকদম উপজেলার সদস্য সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে।
জেলা পরিষদ সূত্রে জানা যায়, পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক থানজামা লুসাই এর স্বাক্ষরিত একটি পত্রে বিশেষ প্রকল্প কর্মসূচীর আওতায় পরিষদের অনুকুলে সরকার কর্তৃক ১ শত ৫০ মে:টন চাউল হতে ৫৫ দশমিক ৯০ মে:টন চাউল লামা উপজেলার সকল মসজিদে বিতরনের জন্য ১ম কিস্তিতে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলামের নামে বরাদ্দ ছাড় করা হয়।
জানা যায়, বরাদ্দের চাউল জেলা পরিষদের সদস্য সাইফুল ইসলাম নিজের নামে ডিও ছাড় করে প্রতি টন চাল ৪৪ হাজার টাকা করে ২৪ লাখ ৫৯ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি করে। যার মধ্যে উপজেলার ৬৬ টি মসজিদে ৫ লাখ ৯৪ হাজার টাকা বিতরণ করে বাকি সব টাকা লুটপাট করার অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিন ইউনিয়নের বিভিন্ন মসজিদে গিয়ে জানা যায়, পবিত্র ঈদ-ঊল-ফিতর ২০২৫ উদযাপন উপলক্ষ্যে উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নে রোড পাড়া জামে মসজিদ, কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ,তৈলুনিয়া পাড়া জামে মসজিদ, চাম্বি বাজার জামে মসজিদ ও সরই ইউনিয়নে হাসনা পাড়া জামে মসজিদ, হাবিবুর রহমান পাড়া জামে মসজিদ, বাইতুশ শরফ জামে মসজিদ, রহমত খোলা জামে মসজিদ ছাড়াও গজালিয়া ইউনিয়নের ৩টি মসজিদের ৯ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়।
উপজেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা যায়, লামা পৌরসভার ৩৯ টি মসজিদ, আজিজনগর ইউনিয়ন ৪ টি, সরই ইউনিয়নে ৪ টি, গজালিয়া ইউনিয়নে ৩টি, ফাইতং ইউনিয়নে ৪ টি, ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নে ৪টি ও রুপসীপাড়া ইউনিয়নের ৩ টি মসজিদ সহ মোট ৬৬ টি মসজিদে ৯ হাজার টাকা দেওয়া হয়।
লামা সদর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যার শহিদুল ইসলাম বলেন, আমার ইউনিয়নে ১৩ টি মসজিদের মধ্য শুধু মাত্র ৪টি মসজিদে ৯ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। বাকী মসজিদে কোন প্রকার চাউল বা নগদ টাকা দেওয়া হয় নাই।
উপজেলার সরই ইউনিয়নের কেয়াবুন্না পাড়া জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি মো: বাবুল মিয়া বলেন, ঈদের আগে ও পরে আমাদের মসজিদের কোন প্রকার নগদ টাকা বা চাউলের কোন বরাদ্দ পাই নাই।
অপরদিকে গজালিয়া ইউনিয়নে গজালিয়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম মো: মামুনুর রশীদ বলেন, মুহাম্মদ পাড়া জামে মসজিদ, ডিসি রোড় জামে মসজিদ ও আমার গজালিয়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ ৩টিতে ৯ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে। বাকী আর কোন মসজিদে আমার জানা মতে দেওয়া হয় নাই।
একই এলাকার খৃজ্জানুনা পাড়া জামে মসজিদের ইমাম সাইফুল ইসলামও বলেন, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ থেকে ঈদ-উল-ফিতরে কোন প্রকার বরাদ্দ পায় নাই।
জানতে চাইলে আজিজনগর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোবারক হোসেন বলেন, আমার ইউনিয়নে ৪ টি মসজিদ টাকা দিয়েছিলো, যার জন্য বাকী মসজিদে ইমামরা আমার উপর রাগ। বিষয় জানতে আমি উপজেলায় যোগাযোগ করলে তারা জানায় এই টাকা শুধু পৌরসভার জন্য বরাদ্দ ছিলো।
চাউল আত্মসাতের বিয়ষটি অস্বীকার করে জেলা পরিষদের সদস্য সাইফুল ইসলাম বলেন, ঈদের আগে চেয়ারম্যান স্যার আমার নামে ৫৫ দশমিক ৯০ মে:টন চাউল চাউল বরাদ্দ দিয়েছিলো। তা আমি টন প্রতি ৪৪ হাজার টাকা বিক্রি করে তার অনুকুলে প্রতি মসজিদে টাকা বিতরন করি। আপনার নামে কেন ডিও ছাড়া হলো প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, চেয়ারম্যান স্যার আমার নামে দিয়েছে তা আমি বেশী দামে বিক্রি করে মসজিদে নগদ টাকা দিয়েছি।
বিষয়টি জানতে লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: মঈন উদ্দিন বলেন, আমি টাকা বিতরণের সময় মোবাইল কোর্টে অবিযান পরিচালনা করার কারণে উপস্থিত ছিলাম না। আমার জানা মতে পৌরসভার ৩০ থেকে ৪০ টি মসজিদে ৯ হাজার টাকা ঈদের বোনাস দেওয়া জন্য ইমাম ও মোয়াজ্জমদের বিতরণ করেছিলো জেলা পরিষদের সদস্য সাইফুল ইসলাম। বাকি ইউনিয়নে বিতরণ করেছে কিনা আমার জানা নাই।
বিষয়টি জানতে বান্দরবান জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক থানজামা লুসাইকে মুটোফোনে একাদিক বার যোগাযোগ করলে তিনি ফোনের সংযোগ বিছিন্ন করে দেন। পরে খুদে বার্তা পাটালেও কোন উত্তর দে নাই।
