নিউজ ডেস্ক :
গাজায় চলমান ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক জনমত গঠনের পাশাপাশি মানবিক সহানুভূতি জাগ্রত করতে এবং ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশে আজ রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘মার্চ ফর গাজা’। বিকেল ৩টা থেকে মাগরিবের আগ পর্যন্ত চলবে এই কর্মসূচি, যা আয়োজন করছে ‘প্যালেস্টাইন সলিডারিটি মুভমেন্ট বাংলাদেশ’ নামের একটি স্বতন্ত্র প্ল্যাটফর্ম। আয়োজকদের ভাষ্যে, এই গণজমায়েত নিরস্ত্র ফিলিস্তিনিদের পক্ষে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে একটি দৃঢ় বার্তা তুলে ধরবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করবেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মাওলানা আব্দুল মালেক। আয়োজকরা জানিয়েছেন, এটি ঢাকার রাস্তায় ফিলিস্তিনের সমর্থনে সবচেয়ে বড় সমাবেশে রূপ নেবে বলে তাদের প্রত্যাশা। কর্মসূচিকে ঘিরে এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। দেশের খ্যাতনামা আলেম-ওলামা, ইসলামি চিন্তাবিদ, খেলোয়াড়, সংস্কৃতিজন ও জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বদের সরব সমর্থনে জনমত আরও বেগবান হয়েছে।
বিভিন্ন রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক পটভূমি থেকে উঠে আসা সর্বস্তরের মানুষ এই কর্মসূচিতে একত্রিত হয়ে সংহতি প্রকাশ করবেন ফিলিস্তিনিদের প্রতি—যা বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অনন্য ঘটনা। আয়োজক সংগঠনের সামাজিক মাধ্যমে একের পর এক ভিডিও বার্তা প্রকাশিত হচ্ছে যেখানে সংহতি জানাচ্ছেন দৈনিক আমার দেশের সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, জাতীয় দলের ক্রিকেটার মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মেহেদী হাসান মিরাজ, নাহিদ রানা ও তাইজুল ইসলাম, ইসলামি বক্তা মিজানুর রহমান আজহারী, আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ, এনসিপির নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ, অভিনেতা তামিম মৃধা এবং টেন মিনিট স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা আয়মান সাদিকসহ অনেকে।
প্রথমে শাহবাগ থেকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ পর্যন্ত পদযাত্রার পরিকল্পনা থাকলেও নিরাপত্তা ও আয়োজনের স্বার্থে কর্মসূচিতে পরিবর্তন এনে এখন শুধুমাত্র সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গণজমায়েতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সমাবেশে অংশগ্রহণকারীদের জন্য কিছু নির্দেশনাও জারি করা হয়েছে। এতে ব্যক্তিগত প্রয়োজনীয় সামগ্রী যেমন পানি, মাস্ক ও ছাতা সঙ্গে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার এবং ধৈর্য ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অংশগ্রহণকারীদের প্রতি রাজনৈতিক প্রতীক এড়িয়ে কেবল বাংলাদেশ ও ফিলিস্তিনের পতাকা বহনের আহ্বান জানানো হয়েছে। সেই সঙ্গে দুষ্কৃতিকারীদের কার্যক্রম প্রতিহত করতে সক্রিয় ভূমিকা নিতে এবং প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা নেওয়ার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
