মিয়ানমারের স্ক্যাম সেন্টার থেকে মুক্তি পেয়ে দেশে ফিরলেন ১৮ বাংলাদেশি

নিউজ ডেস্ক :

মানব পাচারের শিকার হয়ে মিয়ানমারের স্ক্যাম সেন্টারে বন্দি থাকা ১৮ বাংলাদেশি অবশেষে দেশে ফিরেছেন। মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) দিবাগত রাত ১২টা ৪৫ মিনিটে থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে তারা ঢাকায় পৌঁছান। বিমানবন্দরে তাদের জরুরি সহায়তা দেয় ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের কর্মীরা।

ভালো চাকরি ও উচ্চ বেতনের লোভ দেখিয়ে মানব পাচারকারীরা ভুক্তভোগীদের প্রথমে দুবাইসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে থাইল্যান্ডে নিয়ে যায়। পরে তাদের মিয়ানমারের স্ক্যাম সেন্টারে বন্দি করে জোরপূর্বক সাইবার অপরাধমূলক কাজে লাগানো হয়। কেউ রাজি না হলে বৈদ্যুতিক শকসহ ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হতে হতো।

ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান জানান, ভুক্তভোগীদের পরিবারের অনুরোধে ব্র্যাক পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সিআইডি ও থাইল্যান্ডে বাংলাদেশ দূতাবাসের সহযোগিতায় তাদের উদ্ধারের উদ্যোগ নেয়। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর ১৮ বাংলাদেশিকে মুক্ত করা সম্ভব হয়।

উদ্ধার হওয়া চট্টগ্রামের মো. আলিফ বলেন, “দুবাইয়ে জাহাজে কাজ করতাম। বেশি বেতনে ডাটা এন্ট্রির চাকরির কথা বলে আমাকে থাইল্যান্ডে নেওয়া হয়। এরপর পাচারকারীরা অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মিয়ানমারের ম্যাসটে নিয়ে যায় এবং সেখানে স্ক্যাম সেন্টারে বিক্রি করে দেয়। ছয় মাস ধরে অকথ্য নির্যাতনের শিকার হয়েছি, বাধ্য হয়ে প্রতারণামূলক কাজ করতে হয়েছে।”

এ ঘটনায় মানব পাচার চক্রের প্রধান ইফতেখারুল ইসলাম রনির বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় আটটি মামলা হয়েছে। গত ১৮ জানুয়ারি তাকে চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছেন সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান। পাচারকারী চক্রের অন্যতম হোতা আব্দুল্লাহ আল নোমানকে ধরতে অভিযান চলছে বলে জানান তিনি।

ব্র্যাকের শরিফুল হাসান বলেন, “সাইবার স্ক্যাম মানব পাচারের ভয়াবহ নতুন ধরন। কল সেন্টার, কম্পিউটার অপারেটর বা টাইপিস্ট পদে চাকরির লোভ দেখিয়ে মানুষকে ফাঁদে ফেলা হয়। পরে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে জোরপূর্বক প্রতারণার কাজে বাধ্য করা হয়। থাইল্যান্ড, মিয়ানমার, লাওস, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ায় এমন ঘটনা বাড়তে থাকায় সরকার এসব দেশে যাওয়ার বিষয়ে সতর্কতা জারি করেছে। বিদেশগামীদের এ বিষয়ে আরও সচেতন হতে হবে।”