করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর সুপারিশ, ভ্যাট হার কমানোর প্রস্তাব সিপিডির

নিউজ ডেস্ক :

চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকা কম হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডি। এ ঘাটতি পূরণে সরকারকে টাকা ছাপিয়ে ঋণ নিতে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছে সংস্থাটি। রোববার আগামী অর্থবছরের বাজেট সুপারিশ নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন, গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম এবং সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান সংবাদ সম্মেলনে বাজেটসংক্রান্ত সুপারিশ উপস্থাপন করেন। তারা জানান, উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপ সামাল দিতে ব্যক্তিশ্রেণির করমুক্ত আয়সীমা বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এই সীমা সাড়ে তিন লাখ টাকা, যা ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আরও ৫০ হাজার টাকা বাড়ানোর সুপারিশ করেছে সিপিডি।

ভ্যাট ফাঁকি রোধে ভ্যাট হার ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করার পরামর্শও দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এছাড়া, তারা মনে করে, গ্যাসের দাম বাড়ানো হলে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বেড়ে যাবে, যা সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়াবে।

বর্তমানে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য ৫, ১০, ১৫, ২০ ও ২৫ শতাংশ হারে কর নির্ধারিত রয়েছে। নারী ও ৬৫ বছরের বেশি বয়সী করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমা ৪ লাখ টাকা, তৃতীয় লিঙ্গ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য পৌনে ৫ লাখ টাকা এবং গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ৫ লাখ টাকা নির্ধারিত রয়েছে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অভিভাবকদের জন্য করমুক্ত আয়ের সীমা আরও ৫০ হাজার টাকা বেশি রাখা হয়েছে।

এছাড়া, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন ও চট্টগ্রামে বসবাসকারী করদাতাদের জন্য ন্যূনতম কর ৫ হাজার টাকা নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে, অন্য সিটির জন্য ৪ হাজার এবং সিটি করপোরেশন ছাড়া অন্য এলাকার করদাতাদের জন্য ন্যূনতম কর ৩ হাজার টাকা নির্ধারিত রয়েছে।