নিউজ ডেস্ক :
মাত্র ছয় মাসে বাংলাদেশের অর্থনীতি যে গতিতে পুনরুদ্ধার হয়েছে, তা এক ধরনের বিস্ময় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তার মতে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার আগে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ছিল ভঙ্গুর, যা যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারত।
বুধবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে ডেভেলপমেন্ট জার্নালিস্ট ফোরাম অব বাংলাদেশ (ডিজেএফবি) আয়োজিত ‘ডিজেএফবি টক’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রেস সচিব জানান, এনার্জি খাতে দীর্ঘদিনের বিশৃঙ্খলা দূর করতে সরকার কাজ করছে। বিদ্যুৎ খাতে দুর্নীতির মাধ্যমে অপচয় হয়েছে, যা অর্থনীতিকে চাপে ফেলেছে। এই খাতকে টেকসই করতে বড় বড় পাওয়ার কোম্পানির সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং গ্যাস অনুসন্ধানে ব্যাপকভাবে কূপ খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য শক্তিশালী এনার্জি অবকাঠামো তৈরি করা জরুরি, কারণ বিনিয়োগকারীরা বিদ্যুৎ খাতের স্থিতিশীলতা ছাড়া এগিয়ে আসবে না।
চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরে তিনি বলেন, বৈদেশিক বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে বন্দরের দক্ষতা বৃদ্ধি অপরিহার্য। রি-এক্সপোর্ট বাড়াতে আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে। বন্দরের উন্নয়ন হলে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগও বাড়বে।
সরকারি অর্থের অপচয়ের কঠোর সমালোচনা করে শফিকুল আলম বলেন, “টাকা নেই, অথচ বিলাসবহুল মডেল মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে। যেখানে একটি মসজিদ তিন কোটি টাকায় করা সম্ভব, সেখানে ১৫-১৬ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। শুধু মসজিদ নয়, নানা অবকাঠামো প্রকল্পেও অযৌক্তিক ব্যয় করা হয়েছে, যা জনগণের করের টাকার অপচয় ছাড়া কিছুই নয়।”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিজেএফবির সভাপতি হামিদ-উজ-জামান।ব্যাংক খাতের দুর্নীতির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজনৈতিক সুবিধাভোগীদের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় অর্থ লুটপাট হয়েছে। আগের সরকার অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় চরম অদক্ষতার পরিচয় দিয়েছে, যার ফলে দেশ ভয়াবহ আর্থিক সংকটে পড়েছিল। তবে বর্তমান প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণমূলক নীতির কারণে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়িয়েছে। অপচয় রোধে কর ব্যবস্থা শক্তিশালী করা হয়েছে এবং বাজেটের বড় অংশ বৈদেশিক ঋণ পরিশোধে ব্যয় করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।