নিউজ ডেস্ক:
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগে ‘চেইন অব কমান্ড’ ও ‘ভার্সিটির কালচার’ শেখানোর নামে র্যাগিংয়ের অভিযোগ উঠেছে। দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে রাখার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
মঙ্গলবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম গেটসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ‘ম্যানার’ শেখানোর অজুহাতে নির্যাতন চালায়। এ সময় কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েন।
খবর পেয়ে প্রক্টরিয়াল বডি এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষকেরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগীদের উদ্ধার করেন। পরে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা লিখিত অভিযোগ জমা দেন। এ ঘটনায় বুধবার ১৩ অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। তাঁদের আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা প্রায়ই রাতের বেলা বিভিন্ন স্থানে ডেকে নিয়ে দীর্ঘ সময় আটকে রাখেন এবং মানসিক নির্যাতন চালান। গত মঙ্গলবার বিকেলে ৩২ জন প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীকে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা ধরে আটকে রাখা হয়, যেখানে দুইজন ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মাহবুবুর রহমান বলেন, “ঘটনার খবর পাওয়ার পর আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নিই। শিক্ষার্থীরা লিখিত অভিযোগ দিলেও পরে তা প্রত্যাহারের আবেদন করে। তবে সংশ্লিষ্ট বিভাগ এবং প্রক্টর অফিস থেকে শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়েছে।”
সমাজবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মো. মাসুদুর রহমান জানান, অভিযুক্ত ১৩ শিক্ষার্থীকে শোকজ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “ভুক্তভোগীদের দাবি অনুযায়ী, এ ধরনের ঘটনা যেন পুনরাবৃত্তি না হয় এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা র্যাগিং প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানে আছি।”